জেলা প্রতিনিধি
২০ মে ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
নেত্রকোনার পূর্বধলায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতি হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরে প্রশাসন ইজারাবিষয়ক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসন ১১টি ইউনিয়নে ৫৩টি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাটের জন্য ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেয়। আজ দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনীম জাহানের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে ইজারা ডাক শুরু হয়। এ সময় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে উভয় দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়। বিএনপির লোকজন জামায়াতের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে কিলঘুষি মারেন। পরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা হল থেকে বের হয়ে যান। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করে দেয় উপজেলা প্রশাসন।
এ বিষয়ে জামায়াত দলীয় নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফা বলেন, আমি ঢাকায় রয়েছি। শুনেছি -বিএনপি নেতা-কর্মীরা জোর করে সব হাটের ইজারা নিতে চেয়েছিলেন। এ সময় আমাদের দলের নেতা–কর্মীরা বাধা দেন। এতে বিএনপির নেতা–কর্মীরা আমার নেতা-কর্মীদের মারধর করে বের করে দেন। আমাদের কয়েকজ নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে আনইগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে আমি অনুরোধ জানিয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদার বলেন, এমপির প্রভাব খাটিয়ে জামায়াতের লোকজন সবগুলো বাজার নিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। তখন আমার দলের নেতা-কর্মীরা বাধা দেন। এ নিয়ে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তবে আমার দলীয় কোনো লোকজন জামায়াতের লোকজনের উপর হামলা চালায়নি। আমরা চাই, উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে বাজার ইজারা দেওয়া হোক।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসনীম জাহানকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, কোরবানি উপলক্ষে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের লোকজনের মধ্যে হট্টগোল তৈরি হয়। পরে ইজারা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস