জেলা প্রতিনিধি
২০ মে ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ দখল করে এক শিক্ষিকার পরিবারসহ বসবাসের অভিযোগে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কালারাইবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে।
দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্য ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার জন্য বিদ্যালয়টি স্থানীয়দের কাছে প্রশংসিত ছিল। চারপাশের সবুজ প্রকৃতি, পরিপাটি শ্রেণিকক্ষ, ফুলের বাগান ও নান্দনিক পরিবেশ মিলিয়ে এটি সীমান্ত এলাকার অন্যতম আকর্ষণীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পায়। কিন্তু সম্প্রতি সেই সুনাম যেন ম্লান হতে শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির একটি কক্ষ দখল করে সেখানে বসবাস করছেন এক শিক্ষিকা। কক্ষটিতে খাট-বিছানা, রান্নার সরঞ্জামসহ ব্যক্তিগত নানা সামগ্রী রাখা হয়েছে, যা শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অস্বস্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
অভিভাবকদের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ কোনোভাবেই ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয়।

তাদের দাবি, এতে যেমন বিদ্যালয়ের নান্দনিকতা নষ্ট হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আশপাশে বাসা ভাড়া নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়কে বসতবাড়ি হিসেবে ব্যবহার করাকে তারা অনভিপ্রেত বলে মনে করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুনমুন বণিক বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, একজন সহকারী শিক্ষিকা তার ছোট সন্তানকে নিয়ে সাময়িকভাবে ওই কক্ষে অবস্থান করছিলেন। শিশুর দেখাশোনার জন্য একজন সহায়ক নারীও ছিলেন। তবে খুব দ্রুতই কক্ষটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর বলেন, বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শ্রেণিকক্ষ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা শিক্ষা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।