জেলা প্রতিনিধি
২০ মে ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
দেশের তৃতীয় বৃহত্তম বিভাগীয় শহর খুলনার সড়কে প্রথমবারের মত যুক্ত হচ্ছে ফ্লাইওভার। নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকা থেকে সিটি বাইপাস পর্যন্ত সংযোগ সড়কের ওপর তৈরি হচ্ছে এই উড়াল সেতু। তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে যানজটে নাকাল খুলনা মহানগরীতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে। লম্বা সময় পেরিয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পটি শেষ হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, নগরীর প্রবেশ ও বহির্গমন পথগুলোতে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। যানজট কমানো, ভারী যানবাহনের বিকল্প চলাচল নিশ্চিত করা এবং নগরীর অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ সহজ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশেষ করে গল্লামারি, নিরালা মোড়, রায়ের মহল ও সিটি বাইপাস এলাকায় যানবাহনের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। নতুন এই ফ্লাইওভার ও লিংক রোড চালু হলে সেই চাপ অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কেডিএ থেকে জানা যায়, ‘সাতক্ষীরা সড়ক ও সিটি বাইপাস সড়কে সংযুক্ত করে সংযোগ সড়কসহ লিংক রোড নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় খুলনায় নতুন তিনটি সড়ক নির্মাণ হচ্ছে। প্রায় ৭১৭ কোটি টাকার এই প্রকল্পের প্রথম সড়কটি নিরালা মোড় থেকে ১ নম্বর সড়ক হয়ে দিঘির পাশ দিয়ে সিটি বাইপাস (রূপসা সেতু অ্যাপ্রোচ) সড়কে গিয়ে মিশেছে। প্রায় তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটি ৬০ ফুট চওড়া এবং চার লেনের। নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা। চলতি ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।

সড়কটির মাঝে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) কবরস্থান থাকায় ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের চার লেনের উড়াল সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। উড়াল সড়কটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৬০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। খুলনার প্রথম দৃষ্টিনন্দন উড়ালসেতু বা ফ্লাইওভারটির বর্তমানে কাজ শেষের পথে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট জানান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে সময় ও নকশায় কিছু পরিবর্তন আনা হলেও নির্ধারিত বাজেটের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর অভ্যন্তরে প্রবেশ ও বের হওয়ার বিকল্প পথ তৈরি হবে। বর্তমানে যেসব ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ভারী যানবাহন শহরের প্রধান সড়ক ব্যবহার করে যানজট সৃষ্টি করে, তারা সরাসরি সিটি বাইপাস ব্যবহার করতে পারবে। এতে নগরীর প্রধান সড়কগুলোর ওপর চাপ কমবে এবং যাতায়াত সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নতুন সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে সংশিষ্ট এলাকায় জমির দাম আগেই বেড়ে গেছে। রাস্তাটি চালু হলে দাম আরও বাড়বে। পাশাপাশি এ এলাকায় বাণিজ্যি ও আবাসন খাতেও পরিবর্তন আসবে।

নিসচা খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবর রহমান মুন্না বলেন, নকশাগত কিছু ত্রুটি এবং আবাসিক এলাকার মধ্য দিয়ে ভবনটি যেভাবে গিয়েছে, এটি যদি আরও প্রশস্ত করা যেত এবং লিংক রোডগুলো যদি আরও বাড়ানো যেত তাহলে হয়তো নগরবাসীর সুবিধা হতো।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(কেডিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী ও থ্রি-লিংক রোড প্রকল্পের পরিচালক মোরতোজা আল মামুন বলেন, কারিগরি কারণে প্রকল্পের সময় কিছুটা বেড়েছে। তবে আশা করছি, চলতি বছরের শেষের দিকে নির্মাণ কাজ শেষ হবে । ইতোমধ্যে ব্রিজের কাজ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এবং সড়কের কাজ ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে খুলনার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। নগরীর যানজট কমবে এবং নগরবাসী একটি আধুনিক সড়ক পাবে।
নকশাগত ত্রুটির বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই সব কিছু করা হয়েছে। কবরস্থান ও খাল কাজ শেষে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।
প্রতিনিধি/টিবি