জেলা প্রতিনিধি
২০ মে ২০২৬, ০১:৩১ পিএম
ঈদুল আজহাকে ঘিরে ইতোমধ্যেই মাগুরার গ্রামগুলোতে উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে গ্রামগুলো যেমন মেতে উঠছে উৎসবে, একইসঙ্গে সচল হয়ে উঠবে গ্রামীণ অর্থনীতিও। ঈদে কোরবানির পশু বিক্রি থেকে শুরু করে সাধারণ চায়ের দোকানদার সবাই বাড়তি বাড়তি আয়ের সুযোগ পায় যা ঈদকে উপভোগ্য করে তোলে।
ঈদুল আজহার দশ পনেরো দিন আগে থেকেই গ্রামে গ্রামে খামারিরা তাদের প্রস্তুত করা পশু নিয়ে শুরু করেছেন বেচাকেনা। প্রতিটি গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে সারা বছর ধরেই প্রস্তুত করা হয় গরুর ছাগল। কোরবানি আসার আগে থেকেই বাড়িতে বাড়িতে বেচা কেনা হয় এসব পশু। তবে কোরবানির এ পশুগুলি সাধারণত এলাকার ইতোমধ্যেই বিভিন্ন শহরে এমনকি দেশের বাইরে নানা পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের পাঠানো টাকায় তাদের আত্মীয়রা ক্রয় করে থাকেন।
মাগুরা সদরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামের খামারি আব্বাস বলেন, আমরা সারা বছর ধরে পশু পালন করে থাকি কোরবানি ঈদে তা বিক্রি করার জন্য। সাধারণত যারা শহরে থাকেন ঈদের আগেই এসব পশু কেনার জন্য স্বজনদের কাছে টাকা পাঠান। ঈদের আগে এসব পশু বিক্রি করে আমরা মূলত ঈদের খরচ চালাই।
মাগুরার মঘি ইউনিয়নের খামারি আতাউর জানান, আমরা কম দামে কম বয়সী পশু কিনে সারা বছর পালন করি। কোরবানি ঈদ এলে বাড়ি থেকেই সাধারণত এগুলো বিক্রি হয়ে যায়। আবার অনেকেই উচ্চমূল্যে বিক্রির জন্য শহরের হাটে এসব পশু বিক্রি করে। যেভাবেই হোক একটু বাড়তি আয়ের জন্য বছরজুড়ে আমরা কোরবানি ঈদের দিকে তাকিয়ে থাকি।

মাগুরা ইছাখাদা বাজারের জুতা বিক্রেতা রাশেদুল বলেন, সারা বছর গ্রামের মানুষ যে পরিমাণ জুতা কেনেন ঈদের সময় প্রায় সমপরিমাণে বিক্রি হয়। মূলত ঈদের সময় ছুটিতে বাড়িতে আসা মানুষেরা তাদের স্বজনদেরকে সঙ্গে নিয়ে কেনাকাটা করেন।
কোরবানি ঈদকে ঘিরে মাগুরার গ্রামগুলোতে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। বিশেষ করে চায়ের দোকানগুলোতে জমে ওঠে আড্ডা।
সদর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের চায়ের দোকানদার ইদ্রিস বলেন, ঈদের দুই এক দিন আগে থেকেই গ্রামে শহর থেকে লোক আসা শুরু হয়। বন্ধু-বান্ধব সবাই অনেকদিন পর একসঙ্গে হয়ে চায়ের দোকানে আড্ডায় দিতে আসে। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত আমাকে চা বানাতে হয়। এ সময় আমার উপার্জনও অনেক বেড়ে যায়।
শ্রীপুর উপজেলার নাকোল সম্মিলনী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মির্জা নাহিদ হোসেন বলেন, আমার কর্মস্থল বাড়ির পাশে হওয়াতে আমি বাড়িতেই বাস করি। ঈদুল আজহা আসার আগে থেকেই যারা দূরে থাকে তারা কোরবানির পশু কেনার জন্য টাকা পাঠান। অধিকাংশ পশু গ্রামের গৃহস্থরাই বিক্রি করেন। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটি বিশেষ প্রভাব পড়ে যা ঈদের আনন্দ বাড়িয়ে দেয়।
এছাড়াও আমাদের বন্ধু বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন দূর দূরান্ত থেকে গ্রামে আসেন ঈদ করতে। এদের মধ্যে অনেকেই সচ্ছল। তারা গ্রামেই ঈদের কেনাকাটা করে থাকেন, সেটিও গ্রামের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। একদিকে যেমন গ্রামের মানুষ বাড়তি আয় করে অন্যদিকে গ্রামে যারা ঈদ করতে আসেন তারাও স্বজনদেরকে নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে থাকেন।
ঈদের আনন্দ সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয় গ্রামের চায়ের স্টলগুলোতে। গভীর রাত পর্যন্ত চলে আড্ডা। গ্রামের শিশুরা যেমন উৎসবে মেতে ওঠে নারীরাও কোরবানি ঈদে রান্না এবং অতিথি আপ্যায়নের মাধ্যমে ব্যস্ত সময় কাটান।