জেলা প্রতিনিধি
২০ মে ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
মানুষের জন্য নয়, এবার চুয়াডাঙ্গায় গরুর জন্য তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী এক ‘আবাসিক হোটেল’। যেখানে প্রতিটি গরুর জন্য রয়েছে নির্ধারিত ভাড়া, বুফে খাবার, গোসল, খোলা পরিবেশে চলাফেরা ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ডুগডুগি গরুর হাট সংলগ্ন একটি আমবাগানের ভেতর গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী এই ‘আরিফ গবাদিপশু হোটেল কাম ওয়্যারহাউস’। উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে গরু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। হাটে আসা গরু ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট দূর করতেই তিনি চালু করেছেন এই অভিনব উদ্যোগ।

জানা গেছে, কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে হোটেলটি চালু করা হলেও ব্যবসায়ীদের ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় বর্তমানে এটি সারা বছরই খোলা রাখা হয়েছে। এখানে ৩০০ কেজির নিচের গরুর জন্য ২৪ ঘণ্টার ভাড়া ৫০০ টাকা এবং ৩০০ কেজির বেশি ওজনের গরুর জন্য ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
হোটেলটিতে গরুর জন্য রয়েছে আলাদা আবাসন সুবিধা। প্রতিদিন নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয় পুরো এলাকা। প্রতিটি গরুর জন্য নির্দিষ্ট খাবারের পাত্রে সার্বক্ষণিক ঘাস, বিচালি ও সাইলেজ রাখা থাকে। গরুর চাহিদা অনুযায়ী দিনে তিন থেকে চারবার খাবার দেওয়া হয়। পাশাপাশি কর্মীরা নিয়মিত গোসল করিয়ে গবাদিপশুর পরিচর্যা করেন।

কর্তৃপক্ষ জানায়, কোনো গরু অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় প্রাণী সেবা কর্মী ও চিকিৎসকের সহায়তায় চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়। এ জন্য আলাদা ফি নেওয়া হয়।
স্থানীয় পল্লী প্রাণী সেবা কর্মী ওবায়দুল হক রুনু বলেন, ডুগডুগি পশুর হাট জেলার অন্যতম বড় হাট। সারা বছর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে গরু ও ছাগল আসে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের বড় সমস্যা ছিল গবাদিপশু রাখার নিরাপদ জায়গা না পাওয়া। এখন তারা এই হোটেলে গরু রেখে নিশ্চিন্তে হাটে কেনাবেচা করতে পারছেন।

গরুর বেপারীরা জানান, আগে হাটে গরু নিয়ে এলে রাত কাটানো ও গরু রাখার নিরাপদ জায়গা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। অনেক সময় খোলা জায়গায় বা রাস্তার পাশে গরু রেখে পাহারা দিতে হতো। এখন এই হোটেল চালু হওয়ায় তারা নিরাপদে গরু রেখে স্বস্তিতে ব্যবসা করতে পারছেন।
হোটেল মালিক আরিফুল ইসলাম বলেন, অনেকেই একটি গরু কেনার পর আরেকটি কেনার জন্য হাটে যান। তখন আগের গরুটি কোথায় রাখবেন, সেটা নিয়ে বিপাকে পড়েন। তাদের সমস্যার সমাধান করতেই এই হোটেল চালু করেছি। হাটের কাছাকাছি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এখানে গরু রেখে নিশ্চিন্তে কেনাবেচা করতে পারছেন। কিছুদিন আগে এক ব্যক্তি ১২টি গরু নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে বিপাকে পড়েছিলেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি গরুগুলো এখানে নিয়ে আসেন এবং নিরাপদে রেখে রাতে বিশ্রাম নিতে পেরেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, মানুষের আবাসিক হোটেলের মতো এখানেও চেক-ইন ও চেক-আউট ব্যবস্থা রয়েছে। গরু প্রবেশের পর টানা ২৪ ঘণ্টাকে একদিন হিসেবে ধরা হয়। খাওয়াদাওয়া পুরোপুরি বুফে পদ্ধতিতে দেওয়া হয়। চাইলে ছাগল রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গরুর হোটেলটির পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ। হাটের পাশেই হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ এবং এখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহজেই গরু পরিবহন করা যায়।

হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন এই উদ্যোগে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। ভবিষ্যতে চাহিদা অনুযায়ী আরও ঘর নির্মাণ ও সিসিটিভি ক্যামেরার পরিমাণ বাড়িয়ে পুরো হোটেল এলাকা নজরদারিতে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপপরিচালক ডা. আ.হা.ম. শামিমুজ্জামান বলেন, এটি একটি অভিনব ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। গরু ব্যবসায়ীদের জন্য এটি অত্যন্ত সহায়ক। তারা নিরাপদে পশু রেখে নিশ্চিন্তে কেনাবেচা করতে পারছেন। শুধু কোরবানির মৌসুম নয়, সারা বছরই এই হোটেল চালু থাকবে। আমরা চাই ভবিষ্যতে প্রতিটি পশুর হাট কেন্দ্রিক এমন নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠুক।
প্রতিনিধি/টিবি