images

সারাদেশ

সিদ্ধিরগঞ্জে অপহৃত দুই শিশু উদ্ধার, বাবাসহ ৩ মানব পাচারকারী গ্রেফতার

উপজেলা প্রতিনিধি

১৯ মে ২০২৬, ১০:২১ পিএম

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বুকস গার্ডেন এলাকা থেকে অপহৃত দুই শিশুকে উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত মানব পাচার চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) পিবিআই সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তে এ সাফল্য আসে।

পিবিআই জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদের নির্দেশনায় এসআই মো. ফরহাদ বিন করিমের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়।

অভিযানে গত ১৮ মে গভীর রাতে রাজধানীর বনানী কড়াইল বস্তি এলাকা থেকে মামলার মূল হোতা এমদাদুল হক রাব্বানীকে (২৩) গ্রেফতার করা হয়। তার তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুর-ই-নাসরিনকে (২৯) গ্রেফতার এবং তার হেফাজত থেকে মাত্র ২৮ দিন বয়সী অপহৃত শিশু আব্দুর রহমান জুবায়েতকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ১৩ মে রাতে সাভারের আড়াপাড়া এলাকা থেকে অপর শিশু আরিয়ানকে (৫) উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশু দুটির বাবা মেজবাহ উদ্দিনকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এজাহার অনুযায়ী, সাত বছর আগে ঝর্না আক্তারের সঙ্গে মেজবাহ উদ্দিনের বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই মেজবাহ বিভিন্ন সম্পর্কে জড়িয়ে সংসারে কলহ সৃষ্টি করতেন এবং স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি করতেন। টাকা না দিলে সন্তানদের বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দিতেন তিনি।

গত ২১ এপ্রিল সন্ধ্যায় মেজবাহ উদ্দিন তার পূর্বপরিচিত রাব্বানীর সহায়তায় দুই সন্তানকে বাসা থেকে অপহরণ করেন। পরে মা জানতে পারেন যে শিশুদের পাচারের উদ্দেশ্যে বিক্রির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই অভিযোগে তিনি থানায় মামলা করেন।

পিবিআই জানায়, রাব্বানী একটি সক্রিয় মানব পাচার চক্রের সদস্য। সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের শিশুদের টার্গেট করে পাচার করত। অন্যদিকে, শিশুদের পিতা মেজবাহ উদ্দিন মাদক ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন এবং অর্থের বিনিময়ে নিজের সন্তানদের বিক্রি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হলে রাব্বানীর ৫ দিন ও নুর-ই-নাসরিনের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এছাড়া মেজবাহ উদ্দিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতার এবং পাচার হওয়া অন্যান্য শিশুদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

প্রতিনিধি/একেবি