Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

জুলাই গ্রাফিতি নিয়ে উত্তেজনার পর সমঝোতায় মেয়র-এনসিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ মে ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে হঠাৎ শুরু হওয়া রাজনৈতিক উত্তাপ থেমে গেল চট্টগ্রামে। রাজপথে মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরে এসে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নিজেই বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে গ্রাফিতি আঁকা শুরু করেছেন। এনসিপি আঁকছেন শিক্ষার্থীদের নিয়ে। এমন সমঝোতায় মিছিল-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

সিএমপি সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর টাইগারপাস এলাকায় মেয়র শাহাদাত হোসেন গ্রাফিতি অঙ্কন শুরু করেন। এ সময় বিএনপি ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী অংশ নেন। এছাড়া এনসিপি নেতাকর্মীরাও তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টা থেকে টাইগারপাস এলাকায় জড়ো হয়ে গ্রাফিতি আঁকা শুরু করে। দু’পক্ষের মধ্যে এমন সমঝোতার পর উত্তেজনা কমে এসেছে। তাই মিছিল-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে সিএমপি।

এর আগে নগরীর টাইগারপাসে অস্থায়ী নগর ভবনের প্রবেশমুখে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের চারটি পিলারে সাদা-হলুদ রঙ করে সিটি করপোরেশন। রোববার (১৭ মে) বিকেল থেকে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা শুরু হয়। এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, মেয়র শাহাদাত হোসেনের নির্দেশে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়েছে।

এ নিয়ে রাতে এনসিপির নেতাকর্মীরা টাইগারপাসে বিক্ষোভ শুরু করলে মেয়র শাহাদাতের অনুসারী বিএনপি নেতাকর্মীরাও মাঠে নামেন। উভয়পক্ষ মুখোমুখি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ তাদের দুদিকে সরিয়ে দেয়। রাত ১২টার দিকে মেয়র শাহাদাত সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

এরপর সোমবার (১৮ মে) সকালে সিএমপি নগরীর জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকায় মিছিল, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। কিন্তু সিএমপির নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থী পরিচয়ে একদল তরুণ-তরুণী টাইগারপাসে গ্রাফিতি আঁকতে যান।

এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে উভয়পক্ষে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। প্রতিবাদে এনসিপি সংবাদ সম্মেলন করে দুদিনের গ্রাফিতি অঙ্কনের কর্মসূচি শুরু করে। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে গ্রাপিতি অঙ্কনকারীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ সময় নারী শিক্ষার্থীদের শরীরে পুলিশের হাত দেওয়ার অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির নেতাকর্মীরা। এরপর সোমবার বিকেল থেকে আস্তে আস্তে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে সিএমপি গণবিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এরপর সংবাদ সম্মেলনে এসে মেয়র শাহাদাত হোসেন দাবি করেন, দুপুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘাতের ভিডিও দেখে তিনি সিএমপি কমিশনারকে ফোন করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছেন।

মেয়রের ভাষ্য, আমার বিরুদ্ধে গ্রাফিতি মুছার যে অভিযোগ, সেটা ডাহা মিথ্যা। যারা গ্রাফিতি করতে আগ্রহী তারা অবশ্যই করবে। তবে সেটা যেন দৃষ্টিনন্দন হয়। সিটি করপোরেশন এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি সবসময় পাশে থাকব। প্রয়োজন হলে আর্থিক সহযোগিতাও করব। কাউকে অযথা দোষারোপ বা মিথ্যাচার নয়। আমরা সম্প্রতি, ঐক্য ও সাম্যের শহর গড়তে চাই। কোনো ধরনের অনিরাপত্তা বা বিভাজনের রাজনীতি আমরা চাই না।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয় বললেন, মেয়র সাহেব নিজেই গ্রাফিতি আঁকছেন। সেটা ভালো লাগছে। তবে ওনার মতো করে উনি গ্রাফিতি আঁকছেন। আমরা আমাদের মতো করে আঁকছি। সোমবার রাতের পর মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল থেকেও গ্রাফিতি অঙ্কন চলছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের রক্তে কেউ যেন হাত দেওয়ার সাহস না করে, সেটাই প্রত্যাশা করব।

প্রতিনিধি/টিবি