জেলা প্রতিনিধি
১৮ মে ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম
রংপুরে গর্ভের সন্তানসহ প্রেমিকাকে হত্যার মামলায় আসামি মাসুদ মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে এই রায় দেন রংপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের গাজী খাঁ পিত্তিরচড়া-রাজারামপুর সড়কের পশ্চিম পাশে মতিয়ার রহমানের আখক্ষেতে এক অজ্ঞাতনামা নারী ও একটি শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানার এসআই নজরুল ইসলাম মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে র্যাব মাসুদকে গাজীপুরের তারাগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়।
আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আসামি মাসুদ। পরে পুলিশের তদন্তে ওই নারীর পরিচয় বেরিয়ে আসে। ভুক্তভোগী ওই নারী ঢাকার আশুলিয়ার হামিম পোশাক কারখানার শ্রমিক সান্তনা বেগম (৩০)। তার বাড়ি বগুড়ায়।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, রংপুরের পীরগঞ্জের টুকুরিয়া ইউনিয়নের মোনাইল গ্রামের সাহেব মিয়ার ছেলে মাসুদ মিয়ার সাথে ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় সান্তনার সঙ্গে পরিচয় হয়। প্রথমে দুলাভাই-শ্যালিকার সম্পর্ক তৈরি হলেও একপর্যায়ে তা প্রেমে গড়ায়। সেই সুবাদে তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। সান্তনা বিয়ের জন্য চাপ দিলে মাসুদ কৌশলে তা এড়িয়ে যান। এরই মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা হন সান্তনা। মাসুদ চলে আসেন পীরগঞ্জে।
২০২৩ সালের ১২ জুলাই সান্তনা পীরগঞ্জে এসে মাসুদের বাড়িতে বিয়ের দাবি জানান। মাসুদ বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কৌশলে তাকে খালার বাড়িতে নিয়ে রাত কাটান। পরের দিন বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সেখান থেকে ডেকে নিয়ে একটি আখক্ষেতে গলায় পা দিয়ে চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন মাসুদ। এরপর পেটে লাথি মারলে মৃত কন্যা সন্তান প্রসব হয়।
এ ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোস্তফা কামাল ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই মাসুদকে দায়ী করে আদালতে চার্জশিট দেন। ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে আদালত মাসুদকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি আফতাব উদ্দিন বলেন, এই মামলায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী সুলতান আহমেদ শাহীন বলেন, আমার মক্কেল ন্যায়বিচার পাননি। পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি বিশ্লেষণ করে আপিল করা হবে।
প্রতিনিধি/ এজে