images

সারাদেশ

ঈদে ভোলার পশুর হাট কাঁপাবে ‘কালাচান’ ও ‘সাদাচান’

জেলা প্রতিনিধি

১৬ মে ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

ভোলার এক প্রান্তিক গ্রামের খামারে গড়ে উঠেছে মানুষ ও পশুর এক অন্যরকম মায়ার সম্পর্ক। খামারি আদর করে তার পোষা দুটি গরুর নাম রেখেছেন ‘কালাচান’ ও ‘সাদাচান’।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের চর মনসা গ্রামের খামারি দুলাল বেপারির খামারে এখন উৎসুক মানুষের ভিড়। কারণ, সেখানে রয়েছে বিশাল আকৃতির দুটি গরু ‘কালাচান’ ও ‘সাদাচান’। একটির ওজন প্রায় ২২ মণ, অন্যটির ১৮ মণ। শুধু আকারে নয়, যত্ন ও ভালোবাসার কারণে গরু দুটি এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

খামারি দুলাল বেপারি জানান, প্রায় তিন বছর আগে স্থানীয় একটি খামার থেকে গরু দুটির মাকে কিনেছিলেন তিনি। পরে এই বাছুর দুটির জন্ম হয়। সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের লালন-পালন করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া ছাড়াই কেবল সঠিক পরিচর্যায় এই আকৃতি পেয়েছে কালাচান ও সাদাচান।

গরু দুটির জন্য প্রতিদিন সুষম খাবার ও সবুজ ঘাসের পাশাপাশি সপ্তাহে একদিন আপেল কিংবা কমলা দেওয়া হয়। এছাড়া খাবারের তালিকায় রয়েছে মিষ্টি কুমড়া, আলু, ক্যাটল ফিড, ভুট্টার ভুসি ও গমের ভুসি।

দুলাল বেপারি বলেন, ‘গরু দুটোকে সন্তানের মতোই বড় করেছি। বিক্রি করার কথা ভাবলে খারাপ লাগে, কিন্তু খামারি হিসেবে বিক্রি তো করতেই হবে। তবে ন্যায্য দাম না পেলে বিক্রি করব না।’

সরেজমিনে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তে গরু দুটির পরিচর্যায় ব্যস্ত পুরো পরিবার। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে খামারের কাজ করছেন দুলাল বেপারি। খামারির ছেলে মো. আমিন বলেন, ‘কালাচান আর সাদাচান আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো হয়ে গেছে। এত বড় গরু হলেও আমাদের সঙ্গে ছোট শিশুর মতো আচরণ করে। বিক্রি হয়ে যাবে ভাবলেই মন খারাপ হয়।’

কালাচান ও সাদাচানকে দেখতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন। অনেকেই এই খামার দেখে গরু পালনে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘খামারি দুলাল বেপারি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরু দুটি লালন-পালন করেছেন। সঠিক পরিচর্যা ও ধৈর্যের ফলেই এই সফলতা এসেছে।’

ঈদের হাটে যখন কেবলই কেনাবেচার হিসাব, তখন ভোলার এই খামারে তৈরি হয়েছে ভালোবাসা ও পরিশ্রমের এক ব্যতিক্রমী গল্প।

প্রতিনিধি/একেবি