উপজেলা প্রতিনিধি
১৬ মে ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আবারও ভেসে এসেছে একটি জীবিত অলিভ রিডলি প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপ।
শনিবার (১৬ মে) সকাল ১১টার দিকে সৈকতের পূর্ব পাশে ডিসি পার্ক সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৩৫ কেজি ওজনের কচ্ছপটি দেখতে পান সৈকতের ফটোগ্রাফার মোহাম্মদ সাইফুল। পরে বন বিভাগ ও উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) সহযোগিতায় কচ্ছপটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
উদ্ধার হওয়া কচ্ছপটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিলেও সাম্প্রতিক সময়ে কুয়াকাটা উপকূলে একের পর এক সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন বলেন, বারবার এভাবে কচ্ছপ ও ডলফিনসহ সামুদ্রিক প্রাণী মৃত বা আহত অবস্থায় ভেসে আসা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এখনই সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
ডলফিন ও কচ্ছপ রক্ষা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসেই কুয়াকাটা উপকূলে ৭টি মৃত কচ্ছপ ভেসে এসেছে। এর মধ্যে একটি সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ এবং বাকি ছয়টি অলিভ রিডলি প্রজাতির। অধিকাংশ কচ্ছপের শরীরেই ছিল আঘাতের চিহ্ন।

সংগঠনটির তথ্যমতে, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত গত আট বছরে কুয়াকাটা ও আশপাশের সৈকতে অন্তত ৩০টির বেশি মৃত কচ্ছপ উদ্ধার হয়েছে। এদের মধ্যে অলিভ রিডলি, সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ, হকসবিল, লগারহেড ও লেদারব্যাক প্রজাতির কচ্ছপ রয়েছে। একই সময়ে জীবিত অবস্থায়ও একটি কচ্ছপ আন্ধারমানিক নদীসংলগ্ন এলাকায় ভেসে এসেছিল।
স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, বঙ্গোপসাগরে অবৈধ ট্রলিং ও ধ্বংসাত্মক বেহুন্দি জালের ব্যবহারের কারণেই কচ্ছপ, ডলফিন ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী মারা যাচ্ছে। তারা এসব প্রাণীর চিকিৎসার পাশাপাশি মৃত প্রাণীগুলোর বৈজ্ঞানিক গবেষণার দাবি জানিয়েছেন।
পরিবেশকর্মী কেএম বাচ্চু বলেন, সরকারকে বারবার আহ্বান জানানো হলেও এখনো কচ্ছপ ও ডলফিন মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। জেলেদের আরও সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি মৃত সামুদ্রিক প্রাণীগুলো সংরক্ষণের জন্য একটি মিউজিয়াম গড়ে তোলা গেলে পর্যটকরাও এ বিষয়ে সচেতন হবেন।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স ও মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক রাজীব সরকার বলেন, অবৈধ ট্রলিং জালে কচ্ছপ ও ডলফিন আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। জেলেদের সচেতনতার পাশাপাশি বন বিভাগ ও মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে সমুদ্রে কচ্ছপের পোনা অবমুক্ত করা গেলে এ প্রাণীগুলোকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।
বন বিভাগের কুয়াকাটা ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবেল হোসেন জানান, উপকূলে ভেসে আসা কচ্ছপ, ডলফিন ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি। তাই সরকারি-বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে এগিয়ে আসতে হবে। উদ্ধার হওয়া জীবিত কচ্ছপটির চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হলে সেটিকে আবার সমুদ্রে অবমুক্ত করা হবে।
এদিকে সাম্প্রতিক গবেষণায় উপকূলীয় সমুদ্রের পানিতে ১৭৯ ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি সামুদ্রিক কচ্ছপের শরীরে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে এবং এটি তাদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হতে পারে।
প্রতিনিধি/এসএস