জেলা প্রতিনিধি
১৫ মে ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
মাদারীপুর জেলায় গড়ে ওঠা ৪ হাজারেরও বেশি খামার প্রতি বছর কোরবানির পশুর বড় একটি চাহিদা মেটাচ্ছে। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে গবাদিপশু মোটাতাজা করতে শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন খামারিরা। জেলার চাহিদা পূরণ করে এবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে পশু বিক্রির আশা করছেন তারা। খামারিদের দাবি, ভারত থেকে গরু আমদানি ও চোরাচালান বন্ধ রাখা গেলে এবার ভালো লাভ করা সম্ভব হবে।
সরেজমিনে জানা যায়, সদর উপজেলার দুধখালী ইউনিয়নের বড়কান্দি এলাকার সীমা বেগম ও মোক্তার চোকদার দম্পতি কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে একটি গরুর খামার গড়ে তুলেছেন। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে পরম যত্নে তারা ৩৫টি পশু বিক্রির উপযুক্ত করে তুলেছেন। এবার ঈদে ভালো দামে সবগুলো গরু বিক্রির আশা করছেন এই দম্পতি।
খামারিরা জানান, ক্ষতিকর ইনজেকশন বা ওষুধ ছাড়াই পশুকে খড়, ভুসি ও ঘাসসহ নিয়মিত দানাদার খাবার দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত গোসল ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে প্রাকৃতিকভাবেই বেড়ে উঠছে এসব পশু।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ৬৬ হাজার ৮৮০টি পশুর চাহিদার বিপরীতে ৭২ হাজার ৪৯৫টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। কোরবানির পশুর স্থায়ী ও অস্থায়ী অর্ধশত হাটকে ঘিরে জেলাজুড়ে ১৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শচীন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, পশুর রোগবালাই রোধে খামারিদের মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোনো খামারি যাতে অনৈতিক বা কৃত্রিম উপায়ে গরু মোটাতাজা করতে না পারে, সে ব্যাপারেও কঠোর নজরদারি রাখছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
পশুর হাটের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কোরবানির ঈদে পশু কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পুলিশ। হাটগুলোর আশপাশে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
প্রতিনিধি/একেবি