images

সারাদেশ

সুন্দরবনে বনদস্যুদের সঙ্গে কোস্টগার্ডের বন্দুকযুদ্ধ, আটক ৩

জেলা প্রতিনিধি

১৫ মে ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম

অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ডের আওতায় সুন্দরবনে কুখ্যাত সশস্ত্র দস্যু করিম শরীফ বাহিনীর সঙ্গে কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। এসময় ৩ দস্যুকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করা হয়েছে। এছাড়াও করিম শরীফ বাহিনীর হাতে  জিম্মি থাকা ৪ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ মে) সকালে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দফতর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে লেফটেন্যান্ট ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়- সুন্দরবনের কুখ্যাত দস্যু করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনের শ্যালা নদীর মরা চানমিয়া খালী খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, গত ১৩ মে  বুধবার বিকেল ৫টা থেকে ২ দিনব্যাপি কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা এবং স্টেশন কোকিলমনি উক্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালীন কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে উক্ত দস্যু দল গুলিবর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলিবর্ষণ শুরু করে। কোস্ট গার্ডের তীব্র প্রতিরোধের মুখে ডাকাত দল পালানোর চেষ্টা করলে অভিযানকারী দল ধাওয়া করে করিম শরীফ বাহিনীর ৩ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়।

এ সময় আটককৃতদের কাছ থেকে ৩ টি একনলা বন্দুক, ১টি দেশীয় পিস্তল,৪৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগান, গোলা, ২টি ওয়াকি-টকি ও ৪টি ওয়াকি-টকি চার্জার উদ্ধার করা হয়।

আটককৃত দস্যুরা হলো, বাগেরহাট জেলার মোরলগঞ্জ উপজেলার মো. মেহেদী হাসান (২৫) ও মো. রমজান শরীফ (১৯) এবং ফরিদপুর জেলার ভাঙা উপজেলার বাসিন্দা মো. এনায়েত (২৫)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে করিম শরীফ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে দস্যুতা এবং সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।

তিনি আরও জানান, সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সব বনদস্যু বাহিনী নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন”এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের ধারাবাহিক সফলতা হিসেবে, পঞ্চম বারের মতো “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে কুখ্যাত দস্যু করিম শরীফ বাহিনীর ৩ জন সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করা হয়।

সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে দস্যু ও তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

প্রতিনিধি/ এজে