images

সারাদেশ

সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবিতে আরও ৮ বনজীবী অপহৃত

জেলা প্রতিনিধি

১৫ মে ২০২৬, ১২:০৩ পিএম

সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা থামছে না। মুক্তিপণের দাবিতে একের পর এক জেলে ও মৌয়াল অপহরণের ঘটনায় উপকূলীয় বনজীবীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। 

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকা থেকে আরও আটজন বনজীবীকে অপহরণের খবর পাওয়া গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, ‘নানা ভাই/ডন’ ও ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রের মুখে তাদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেছে। অপহৃতরা হলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নজরুল তরফদার (৪৫), আব্দুর রহমান (৩৫), আব্দুল হামিদ মোড়ল (৫০), আব্দুল আলিম গাজী (৪০), হাবিবুর রহমান (৪৮), আনোয়ারুল ইসলাম (৪২) এবং খুলনার কয়রা এলাকার আব্দুস সাত্তার ও শাহিনুর রহমান।

অপহৃতদের সহযোগীরা জানান, সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি নদীর সুবদেব খাল, গুবদেব খাল ও ধান্যখালীর চর এলাকা থেকে তাদের ধরা হয়েছে। বনদস্যুরা একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অপহৃত প্রতিজনের জন্য ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এই টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।

বনজীবীদের মহাজনদের দাবি, এর আগেও অপহৃতদের মুক্ত করতে একই নম্বরে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হয়েছে। এমনকি মধু আহরণ মৌসুম শুরুর আগে মৌয়ালদের কাছ থেকে দস্যুরা অগ্রিম চাঁদা নিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গত ৪ ও ৫ মে একই এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রায় সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তারা ছাড়া পান। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে অভিযান চললেও বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য কমছে না।

এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবনের কদমতলা ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা করিম জানান, অপহরণের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি, তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/একেবি