images

সারাদেশ

​ফরিদপুরে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় মা ও মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি

১৫ মে ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম

রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে নিখোঁজ এক মা ও তার দুই বছরের শিশু কন্যার মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

দীর্ঘ তল্লাশির পর বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদীয়া ইউনিয়নের একটি নির্জন স্থান থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

​নিহত ব্যক্তিরা হলেন—রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩০) এবং তার শিশু কন্যা সামিয়া (২)।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদীয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের চর বালুধুম এলাকায় একটি নির্জন পুকুর পাড়ে কুকুরের আনাগোনা ও টানাটানি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। একইসঙ্গে এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা এগিয়ে যান। সেখানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা মরদেহের অংশবিশেষ দেখতে পেয়ে তারা তাৎক্ষণিক পুলিশকে খবর দেন।

​খবর পেয়ে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি খুঁড়ে এক নারী ও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারের সময় মরদেহগুলো আংশিক গলিত এবং বিকৃত অবস্থায় ছিল। পরবর্তীতে রাজবাড়ী জেলা পুলিশের সহায়তায় নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

​পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বেশ কয়েকদিন আগে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে মা ও শিশুকে হত্যা করে নির্জন স্থানে মাটিচাপা দিয়ে লাশ গুম করার চেষ্টা করেছিল।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম জানান, আমরা নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। যেহেতু মরদেহ দুটি ফরিদপুর জেলার সীমানার ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাই আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মরদেহগুলো ফরিদপুর জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

​এদিকে দৌলতদিয়া এলাকায় মা ও শিশুর মৃত্যুর খবর পৌঁছালে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। আমজাদ শেখের পরিবার এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

​ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা-পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।