images

সারাদেশ

জাহানারা বেগমের রহস্যজনক মৃত্যু, সিসিটিভি ফুটেজ খুঁজছে পুলিশ

জেলা প্রতিনিধি

১৫ মে ২০২৬, ১২:২১ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে চলন্ত সিএনজি চালিত অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়ে জাহানারা বেগম (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে রহস্য। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পেছনে সিএনজি চালক বা সংশ্লিষ্ট কোনো চক্র জড়িত থাকতে পারে?

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেল ৫টার দিকে সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের অষ্টগ্রাম এলাকার বিরাসার-আশুগঞ্জ সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জাহানারা বেগম আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা ইউনিয়নের আড়াইসিধা গ্রামের মৃত এলেম খাঁর স্ত্রী।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ৪/৫ দিন আগে চিকিৎসার জন্য জাহানারা বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে আসেন। পরে তিনি শহরের পূর্ব মেড্ডা তিতাসপাড়া এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় যান। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়িতে ফেরার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন তিনি। পরে বিকেলে অষ্টগ্রাম এলাকায় চলন্ত সিএনজি চালিত অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন জাহানারা বেগম। পরে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ কামাল ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

গ্রাম পুলিশ কামাল জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা অষ্টগ্রাম বাজারের পূর্ব পাশে পৌঁছালে এক নারীকে ধাক্কা দেয়। এতে ওই নারী সড়কে ছিটকে পড়ে যান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি মারা যান। তার দাবি, ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হয়েছে এবং দুর্ঘটনার পর সিএনজিটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

নিহতের খালাতো ভাই শামসুল হক বলেন, “চার-পাঁচ দিন আগে চিকিৎসার জন্য জাহানারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে এসেছিলেন। আজ চিকিৎসা শেষে দুপুরে তিনি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পরে সদর হাসপাতালে গিয়ে বোনের মরদেহ পাই। তিনি কীভাবে মারা গেছেন, সে বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।”

নিহতের ছেলে ইমন অভিযোগ করে বলেন, “আমার মা ব্রাহ্মণবাড়িয়া গেলে সব সময় লালপুর সড়ক দিয়েই যাতায়াত করতেন। তিনি কখনো অষ্টগ্রাম সড়ক হয়ে যাতায়াত করতেন না। তাই আমার ধারণা, চলন্ত সিএনজি অটোরিকশা থেকে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কারা বা কেন এমন করেছে, তা বলতে পারছি না। তবে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, “নারীটি সিএনজি অটোরিকশা থেকে দুর্ঘটনাবশত পড়ে গেছেন, নাকি কেউ ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে এ বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার থুতনি, বাম হাত, মাথার পেছনের অংশ ও বাম পায়ের গোড়ালিতে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে থাকা লোকজনের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

তিনি আরও জানান, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম রকীব উর রাজা বলেন, ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা নাকি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। যদিও ঘটনাস্থলের সরাসরি কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি, তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিকে যাওয়ার পথে একটি সিএনজি অটোরিকশার ফুটেজ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তে সদর থানার পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এটি সড়ক দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা শিগগিরই তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।

প্রতিনিধি/এআর