জেলা প্রতিনিধি
১৩ মে ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার চন্ডিপুর পারএলংজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৯ সালে। এরপর কেটে গেছে সাড়ে তিন দশক। কিন্তু বিদ্যালয়টি আজ পায়নি পর্যাপ্ত অবকাঠামো। ২০০৬ সালে নির্মাণাধীন ভবনটির তিনটি কক্ষে চলছে প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির কার্যক্রম। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষটি এখন শ্রেণিকক্ষ। একদিকে দাফতরিক কাজ চলছে, অন্যদিকে চলছে শিশুদের পাঠদান। এতে কোনো পক্ষই কাজে মনোযোগ দিতে পারছে না।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১২৩ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন ৬ জন। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ব্যস্ত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। বারান্দায় বসে ক্লাস করা ছোট ছোট শিশুদের জন্য দাঁড়িয়েছে চরম ভোগান্তি।
তবে উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে চিঠি পাওয়া গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তালিকা চেয়েছে। তালিকায় প্রথমে চন্ডিপুর পারএলংজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নাম উল্লেখ থাকবে।

সরেজমিনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার চন্ডিপুর পারএলংজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।
চন্ডিপুর পারএলংজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হামিদা খাতুন বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টিতে মাত্র তিনটি শ্রেণিকক্ষ। শ্রেণি কক্ষের অভাবে দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের অফিস কক্ষে পাঠদান করাতে হচ্ছে। ফলে পাঠদানে ছাত্র-ছাত্রীরা অমনোযোগী থাকে। ক্লাসে শিক্ষকরাও বসে থাকে আবার শিক্ষার্থীরাও বসে থাকে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ভোগান্তি হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের আরেক সহকারী শিক্ষিকা ফাতেমা খাতুন বলেন, শ্রেণি কক্ষের সংকটের জন্য শিশুদের বারান্দায় ক্লাস করাতে হচ্ছে। শিশু শিক্ষার্থীরা বারান্দার মেঝেতে বসে ক্লাস করছে। এতে কষ্ট হচ্ছে তাদের। তাই সরকার যদি বিদ্যালয়ে একটি ভবনের ব্যবস্থা করে দিতেন, তাহলে চলনবিল অধ্যুষিত এই অঞ্চলের শিশুরা ভালোভাবে ক্লাসে পড়া-লেখা করতে পারত। এবং পড়াশোনার মান আরো উন্নত হতো।
চন্ডিপুর পারএলংজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু বককার মিয়া বলেন, ১৯৮৯ সালে উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নে চন্ডিপুর পারএলংজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৬ সালে বিদ্যালয়ে পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১২৩ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। ৬ জন শিক্ষকের মধ্যে একজন চিকিৎসার জন্য ভারতে রয়েছে। একজন ডেপুটেশনে পার্শ্ববর্তী একটি বিদ্যালয়ে আছেন। চারজন শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন। বিদ্যালয়টি শ্রেণি কক্ষের সংকট থাকায় ক্লাস নিতে হয় অফিস কক্ষে। এছাড়া শ্রেণি কক্ষের অভাবে বারান্দায় করানো হচ্ছে শিশুদের পাঠদান। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় দুজনের বেঞ্চে বসতে হচ্ছে চারজন শিক্ষার্থীকে। শব্দের কারণে তারা পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারছেন না। যে কারণে প্রতিনিয়ত পাঠ্য কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী ও আগ্রহী করে তুলতে খেলার মাঠ ও বিনোদনের ব্যবস্থা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মুস্তাফিজুর রহমান জানান, নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে তালিকা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চন্ডিপুর পারএলংজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম তালিকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাখা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার সাথে সাথে আমরা কাজ শুরু করতে পারব।
প্রতিনিধি/এসএস