images

সারাদেশ

দুর্গম পাহাড়ে পানির জন্য হাহাকার

জেলা প্রতিনিধি

১৩ মে ২০২৬, ১১:৫৪ এএম

এপ্রিল মাসের প্রথম থেকে খাগড়াছড়ি জেলার দুর্গম এলাকাগুলোতে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। শুকিয়ে যাচ্ছে ছড়া, কুয়ায় মিলছে না পানি। তাই তো রাত পোহালেই পানির খোঁজে ছুটতে হয় মাইলের পর মাইল। নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থাও। 

পাহাড়ে তীব্র গরম পড়ছে। সেই সঙ্গে এখন পানির চাহিদা বেশি। উঁচু পাহাড়-টিলার বাসিন্দারা পানির অভাবে পড়েন।

খাগড়াছড়ি সদরের ঠাকুরছড়া, কলাপাড়া, ধৈলাতলী, কাপপাড়া, হাতিমুড়া, দীঘিনালা উপজেলার নয়মাইল, সীমানাপাড়া, পানছড়ি উপজেলার ওয়াক্রা পাড়া, হেলাধুলা, কলাতলী পাড়াসহ নয় উপজেলার দুর্গম এলাকার শত শত পাহাড়ি গ্রামে পানির অভাবে দৈনন্দিন জীবনও ব্যাহত হচ্ছে। 

dbe76ffe-c67b-4cfb-b133-b6cc3a62d979

সদর উপজেলার দৈইল্যাতলী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ছড়া শুকিয়ে গেছে। মৃত ছড়ার বালির ওপর সারি সারি পাথর ছাড়া আর কিছু দেখা যাচ্ছে না। দুর্গম এলাকার পাহাড়িরা মূলত ঝরনা, ঝিরি, ছড়া, কুয়াসহ প্রাকৃতিক পানির উৎস থেকে খাওয়া এবং ঘরের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করে থাকেন। এখন প্রাকৃতিক উৎসগুলোতে পানি নেই। এতে দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূরে গিয়ে পাহাড়ের নিচে নেমে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এক কলস পানি সংগ্রহ করতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগে।

1aa9dc98-6236-469d-8075-d0c0fdc532af

মাটিরাঙ্গা উপজেলার মাটিরাঙ্গা ৬ নং ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ধৈইল্যাহাজা পাড়ার কাবারি নিরু কুমার ত্রিপুরা বলেন, পাড়ায় পানির অনেক সংকট। কুয়া খুঁড়লে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। গ্রাম থেকে এক কিলোমিটার দূরে গিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হয়। পাড়ার ৪২ পরিবার বসবাস করে। ভোর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। দিনে দুইবার পানি সংগ্রহ করতে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। 

dbe76ffe-c67b-4cfb-b133-b6cc3a62d979

মাটিরাঙ্গা উপজেলার সাপমারা এলাকার বাসিন্দা সতোষ ত্রিপুরা জানান, সাপমারা এলাকায় ৯২ পরিবারের সারা বছরে এ সময়ে পানি সংকটে ভুগতে হয়। এক কলস পানি সংগ্রহ করতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। দৈনিক তিনবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। এই গরমে কুয়াতেও পানি মিলছে না। দূরে গিয়ে সংগ্রহ করতে হয়। সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। কুয়ার পানি পান করতে হয় তাই পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়। পানির সমস্যার সমাধান করতে কোনোদিন কেউ আসেনি।

704d6a15-7332-4bb0-94d3-f0e7799e6565

মাটিরাঙ্গা উপজেলার ৬ নং ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার শান্তিময় ত্রিপুরা জানান, মাটিরাঙ্গা উপজেলার মাটিরাঙ্গা ৬ নং ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ধৈইল্যাহাজাপাড়ায় ৪২ পরিবার, কাপপাড়া ৪০ পরিবার ও ধৈইল্যা এলাকায় ৩৫ পরিবার রয়েছে। ওই গ্রামগুলোতে যে পানির সমস্যা আছে। সেগুলো সমাধান করতে পাবলিক হেলথ ও জেলা পরিষদ যদি পদক্ষেপ নেয় তাহলে দুর্গম গ্রামগুলোর পানির সমস্যার সমাধান হবে।

8473f3fb-0aa9-47e6-9dca-47d0595f3318

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকটের কারণে বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে ঝিরি, ছড়া, কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করেন। যা পান করে পানিবাহিতসহ নানান রোগে আক্রান্ত হয়।

খাগড়াছড়ি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী কে এম সাঈদ মাহমুদ বলেন, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলাসহ নয় উপজেলা দুর্গম বিভিন্ন এলাকায় পানি সংকট রয়েছে। পানির ব্যবস্থা করতে আমরা নতুন পরিকল্পনা করে মন্ত্রণালয়ে প্রজেক্ট সাবমিট করেছি। অনুমোদন হয়ে আসলে আমরা দ্রুত কাজ করব।

প্রতিনিধি/এসএস