জেলা প্রতিনিধি
১২ মে ২০২৬, ০১:২২ পিএম
এ বছর একসঙ্গে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন মা ও ছেলে। জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ৪০ বছর বয়সে পরীক্ষার হলে বসেছেন ফুলঝুরি বেগম (৪০)। তার পাশে পরীক্ষার্থী হিসেবে রয়েছে ছেলে মনিরুল ইসলাম (১৫)।
এই মা-ছেলের বাড়ি লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামে। দুজনই এ বছর মধুবাড়ি দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষা দিচ্ছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৮ম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় উপজেলার নওপাড়া গ্রামে নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয় ফুলঝুড়ি বেগমের। শুরু হয় সংসার জীবনের সংগ্রাম। সেই চাপে তার স্বপ্ন নিভে যায়। স্বামীর সীমিত উপার্জনে চলে সংসার। সংসার জীবনে জন্ম নেয় তার এক ছেলে- এক মেয়ে। সন্তানদের লালন-পালন আর তাদের পড়াশোনার করাতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। এভাবে কেটে গেছে কয়েক যুগ। বড় মেয়ে ইতোমধ্যে নার্সিং শেষ করে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করছেন। পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরে এলে ছোটবেলার সেই স্বপ্ন পূরণের আশা জাগে। নিজে অনুভব করেন তারও পড়াশোনা করা দরকার। স্বামী আর ছেলে-মেয়ের পরামর্শে শুরু করেন পড়াশোনা।

ফুলঝড়ি বেগম বলেন, অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বাবা-মা বিয়ে দেন। তারপর সংসার ও সন্তানের মানুষ করতেই সময় কেটে গেছে। পড়ার আর সুয়োগ হয়নি। নিজের সেই স্বপ্ন মনে রয়ে গেছে। ছেলে-মেয়ের পরামর্শে আবার স্কুলে ভর্তি হই। শুরু করি পড়াশোনা। এ বছর ছেলের সঙ্গে একসঙ্গে পরীক্ষা দিচ্ছি। এসএসসি পরীক্ষা দিতে পেরে অনেক আনন্দিত আমি। কখনো ভাবিনি আমি এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবো। আমরা মা-ছেলের যেন পরীক্ষায় কৃতকার্য হই। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।
ছেলে মনিরুল ইসলাম বলেন, মায়ের সঙ্গে এক সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিতে পেরে আনন্দিত আমি। মা আমাদের জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। সংসারের সব কাজ করে আমাদের মানুষ করেছেন। আমি চাই, মা ভবিষ্যতেও পড়াশোনা চালিয়ে যাক।

স্বামী নজরুল ইসলাম বলেন, একজন শিক্ষিত মা-ই পারে শিক্ষিত জাতি গড়তে। তাই স্ত্রীর পড়াশোনার ইচ্ছায় আমি বাধা দেইনি। ভ্যান চালিয়ে আর দিনমজুরি করে যা আয় করি, তা দিয়েই সংসার চালাই। সে যত দূর পর্যন্ত চায় পড়াশোনা করতে করুক। তার পাশে আমার ছেলে-মেয়েসহ আমি আছি।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, এ ঘটনা নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণাদায়ক একটি দৃষ্টান্ত। এ বয়স কখনোই শিক্ষার পথে বাধা হতে পারে না। ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো বয়সেই শিক্ষা অর্জন সম্ভব। আমি আশা করছি, ফুলঝুরি বেগম আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবেন। প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসন এ মাকে সহযোগিতা করবে।
প্রতিনিধি/টিবি