images

সারাদেশ

চুয়াডাঙ্গায় কোরবানির পশু তৈরিতে ব্যস্ত খামারিরা

জেলা প্রতিনিধি

১২ মে ২০২৬, ১২:১৪ পিএম

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশু প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চুয়াডাঙ্গার খামারিরা। জেলার বিভিন্ন খামার ও গ্রামীণ পরিবারে দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে লালন-পালন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক গবাদি পশু।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদার তুলনায় প্রায় ৭১ হাজার বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারিরা। বিশেষ করে বড় আকারের গরু পালনকারীরা আশানুরূপ দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

আর মাত্র কয়েকদিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির পশু হাটে তোলার প্রস্তুতি ও পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় কাটছে জেলার খামারিদের।

5fe00c78-78c7-46e7-9dd4-185e16d5ed82

প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর চুয়াডাঙ্গায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ২৩৯টি গবাদি পশু। বিপরীতে জেলায় সম্ভাব্য চাহিদা রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার ১৮১ টি পশুর। সেই হিসেবে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ৭১ হাজার ৬৬টি বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, জেলার চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে। খামারগুলোতে দেশীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনায় ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের বিভিন্ন জাতের গরু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব পশুর দাম এক লাখ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৪৪ হাজার ৩৯৬টি গরু, ১১৬টি মহিষ, ১ লাখ ৫৫ হাজার ২০০টি ছাগল এবং আড়াই হাজার ভেড়া।

d82ee82d-6e7d-4c78-82d9-0373c287046a

তবে কোরবানির পশু প্রস্তুতের পুরো সময়জুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ ও জ্বালানি সংকটজনিত লোডশেডিংয়ে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে খামারিদের। অতিরিক্ত গরমে পশুকে সুস্থ রাখতে ফ্যান চালানো, পানি ছিটানো ও বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করতে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খামারি শাহীন বলেন, প্রতি বছরই আমরা ১৫০ থেকে ২০০টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করি। সারা দেশ থেকে ক্রেতারা আমাদের খামারে আসেন তাদের পছন্দের গরু কিনতে। গরু দেখতে সুন্দর ও সুস্থ হওয়ায় ভালো দাম পাওয়ার আশা করি। কিন্তু এবার অনেক ক্রেতাই কসাইখানার গরুর মতো দাম বলছেন। আমাদের লালন-পালন ও পরিচর্যার খরচের তুলনায় সেই দাম খুবই কম।

0e82c86e-eacb-4872-96a4-723d44b5753a

খামারে কর্মরত শামসুল আলম বলেন, এবার তীব্র গরম আর ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পশুর বাড়তি যত্ন নিতে হয়েছে। সারাক্ষণ ফ্যান চালানো, পানি ছিটানো ও খাবারের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হয়েছে। এতে খরচ যেমন বেড়েছে, তেমনি শ্রমও বেশি দিতে হয়েছে।

এদিকে, পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের বাড়তি বিল ও শ্রমিক খরচ বৃদ্ধির কারণে পশু পালন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা। তাই বাজারে কোরবানির পশুর ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

4a033a34-6227-4715-8e54-e0cb61e80e26

চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলের খামারিরা মূলত শাহীওয়াল ও ফ্রিজিয়ান জাতের গরু লালন-পালন করে থাকেন। এছাড়া জেলার ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। স্থানীয় খামারিরা আশা করছেন, এবারের কোরবানির বাজারে ভালো দাম পেলে তারা আরও বড় পরিসরে খামার সম্প্রসারণে আগ্রহী হবেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপ-পরিচালক আ.হা.ম. শামিমুজ্জামান বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও চুয়াডাঙ্গা জেলার চাহিদা পূরণ করে সারা দেশে কোরবানির পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে। গরু ও ছাগল মোটাতাজাকরণের জন্য চুয়াডাঙ্গা অত্যন্ত উপযোগী জেলা। জেলার প্রায় ১০ হাজার খামারি এবার ২ লাখের বেশি পশু প্রস্তুত করেছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে খামারিদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে, যাতে তারা সুস্থ ও নিরাপদ পশু সহজে বাজারজাত করতে পারেন।

প্রতিনিধি/টিবি