images

সারাদেশ

মালচিং পেপারে সবুজ বিপ্লব: শসা চাষে লাখপতি কৃষক দুলাল মিয়া

জেলা প্রতিনিধি

১১ মে ২০২৬, ০১:০৪ পিএম

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার উত্তর হাফিজপুর গ্রামের কৃষক মো. দুলাল মিয়ার জমির চারদিকে এখন সবুজের সমারোহ। সারি সারি লতানো গাছ আর ঝুলে থাকা তাজা শসা জানান দিচ্ছে এক সফলতার গল্প। যেখানে পরিশ্রম, আধুনিক প্রযুক্তি আর সঠিক দিকনির্দেশনার মিলনে বদলে গেছে একজন কৃষকের ভাগ্য।

কৃষি প্রণোদনার আওতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এবং আধুনিক চাষাবাদের প্রতি আগ্রহ থেকে দুলাল মিয়া এ মৌসুমে মালচিং পেপার পদ্ধতিতে শসা চাষের উদ্যোগ নেন। চলতি বছরের ৫ মার্চ তিনি লাল তীর কোম্পানির ‘আলাভী গ্রীণ’ এবং এ আর মালিক সীডের ‘ময়নামতি’ জাতের শসা বীজ নিজের প্রায় ৪৮ শতক জমিতে রোপণ করেন। শুরু থেকেই জমির সঠিক পরিচর্যা, সার প্রয়োগ ও নিয়মিত তদারকির ফলে মাত্র ৩৫ দিনের মাথায় ফলন আসতে শুরু করে।

এরপর থেকেই প্রতিদিন জমি থেকে শসা সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন তিনি। প্রতিদিনের বিক্রিতে যেমন ভালো দাম মিলছে, তেমনি চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। ইতোমধ্যে শসা বিক্রি করে তিনি আয় করেছেন প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। মৌসুমের বাকি সময়জুড়ে আরও প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা আয় হওয়ার আশা করছেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকার বিক্রির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

খরচের দিক থেকেও এটি বেশ লাভজনক উদ্যোগ। পুরো চাষ প্রক্রিয়ায় তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। সেই হিসেবে খরচ বাদ দিয়েও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লাভ ঘরে তুলছেন দুলাল মিয়া। যা তার পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।

কৃষক দুলাল মিয়া বলেন, আগে এভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করিনি। মালচিং পেপার ব্যবহারে জমিতে আগাছা কম হয়, পানি কম লাগে, মাটির আর্দ্রতা ঠিক থাকে। গাছও ভালো বাড়ে, ফলনও বেশি হয়। এতে খরচ কমে গেছে, লাভ অনেক বেড়েছে।

তিনি আরও জানান, শুরুতে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও পরামর্শে তিনি সাহস পান। এখন তার সফলতা দেখে আশপাশের অনেক কৃষকই এই পদ্ধতিতে চাষাবাদের আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

এই সফলতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামীমুল হক শামীম। তিনি নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, রোগবালাই দমন পদ্ধতি ও আধুনিক চাষাবাদ সম্পর্কে দুলাল মিয়াকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম বলেন, মালচিং পেপার প্রযুক্তি ব্যবহার করলে জমির আর্দ্রতা ধরে রাখা যায়। জমিতে আগাছা কম জন্মায় এবং উৎপাদন বাড়ে। আমরা কৃষকদের এই প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছি। দুলাল মিয়ার মতো সফলতা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।

বাহুবল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চিন্ময় কর অপু জানান, কৃষকদের মাঝে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ ছড়িয়ে দিতে সরকারিভাবে বিভিন্ন প্রণোদনা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে মালচিং পেপার পদ্ধতি সবজি চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

গ্রামবাংলার প্রান্তিক কৃষকদের জন্য দুলাল মিয়ার এই সাফল্য শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি একটি অনুপ্রেরণার গল্প। যেখানে সঠিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিশ্রমের সমন্বয়ে বদলে যেতে পারে জীবনের চিত্র।

প্রতিনিধি/টিবি