জেলা প্রতিনিধি
১০ মে ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উৎসব রোববার রাতে শেষ হয়েছে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় গান, কবিতা, মঞ্চনাটক ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সফলভাবে শেষ।
সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম বলেন, রবীন্দ্রনাথ আমাদের যে মানবতা ও সৃষ্টিশীলতার আহ্বান জানিয়েছেন, তা হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। কবির সাহিত্য ও জীবন দর্শন থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে পারলেই এই আয়োজন সার্থক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গত শুক্রবার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এই উৎসবের উদ্বোধন করেছিলেন। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের উৎসবে বাংলা একাডেমিসহ কুষ্টিয়া ও দেশের বিভিন্ন জেলার প্রায় ৬০টি শিল্পকলা ও শিল্পগোষ্ঠীর কয়েকশ শিল্পী অংশগ্রহণ করেন। শিলাইদহ কুঠিবাড়ির কাস্টোডিয়ান মো. আল আমিন জানান, উৎসবের প্রথম দিনে ৬টি, দ্বিতীয় দিনে ২৫টি এবং সমাপনী দিনে ২৯টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা তাদের পরিবেশনা উপস্থাপন করেন।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, রবীন্দ্র ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণের লক্ষ্যে একটি নথিগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কুঠিবাড়ি চত্বর ও এর আশপাশের এলাকা বর্ণিল ব্যানার, ফেস্টুন ও আল্পনায় সাজানো হলেও এবারের আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কুমারখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার উপস্থিত ছিলেন।

‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’ শিরোনামে স্মারক বক্তব্য প্রদান করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মঞ্জুর রহমান। ইউএনও ফারজানা আখতার জানান, লাখো রবীন্দ্র ভক্তের উপস্থিতিতে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তিন দিনের এই মিলনমেলা সম্পন্ন হয়েছে।
প্রতিনিধি/একেবি