images

সারাদেশ

ধার করে চলছিল চিকিৎসা, তবুও বাঁচানো গেল না শিউলি বেগমকে

জেলা প্রতিনিধি

১০ মে ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম

‘সব টাকা চিকিৎসার পেছনেই খরচ করেছি, ধারদেনাও করেছি। তারপরও তাকে বাঁচাতে পারলাম না।’ কথাগুলো বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন জুয়েল খলিফা। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও মানসিক অবসাদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন তার স্ত্রী শিউলি বেগম (৩৮)।

রোববার (১০ মে) বেলা ১১টার দিকে শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার লোনসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পরে পুলিশ গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহত শিউলি বেগম ওই এলাকার জুয়েল খলিফার স্ত্রী ও হাশেম শেখের মেয়ে। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জরায়ুর সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন শিউলি বেগম। পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন সময় স্থানীয় হাসপাতাল ছাড়াও ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করান। তবে দীর্ঘ চিকিৎসার পরও তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি ধীরে ধীরে মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েন তিনি।

রোববার সকালে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস নেন শিউলি বেগম। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্বামী জুয়েল খলিফা বলেন, আমার স্ত্রী অনেকদিন ধরে অসুস্থ ছিল। অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি, কিন্তু সুস্থ হয়নি। আমি অটোরিকশা চালিয়ে যা আয় করতাম আর ছেলে ঢাকায় কাজ করে যা পাঠাতো, সবই চিকিৎসায় খরচ হতো। টাকার অভাবে ধার করেও চিকিৎসা চালিয়েছি। তারপরও সে কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলো বুঝতে পারছি না।

এ বিষয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এসএস