নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ মে ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
ভোলার লালমোহনে জমি দখল, ধান কেটে নেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ইব্রাহিম মিয়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করছেন এবং নিজস্ব বাহিনী দিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ইব্রাহিম মিয়া লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের মাদরাসা বাজারের উত্তর পাশে ১৬৬৪ নম্বর খতিয়ানের ৫১ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করেছেন। ভুক্তভোগী নুর নাহার বেগম, পারুল বেগম, পারভীন বেগম ও ফাতেমা বেগমের দাবি, তারা পৈতৃক সূত্রে এই জমির বৈধ মালিক হওয়া সত্ত্বেও গত নভেম্বরের শেষের দিকে ইব্রাহিম মিয়ার অনুসারীরা ওই জমির পাকা ধান কেটে নিয়ে যায়। বর্তমানে ওই পরিবারগুলোকে মালিকানা ত্যাগের জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম জানান, তাদের কাছে জমির সব বৈধ দলিল থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে ইব্রাহিম মিয়া তাদের উৎখাতের চেষ্টা করছেন। তার সন্ত্রাসী বাহিনীর কারণে পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অপর ভুক্তভোগী পারুল বেগম অভিযোগ করেন, থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টো তাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. ইব্রাহিম মিয়া তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, জমিটি তার পৈতৃক সম্পত্তি যা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেদখল হয়েছিল। তবে দাবির সপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে তিনি অস্বীকৃতি জানান এবং ভুক্তভোগীদের দাখিলকৃত দলিলগুলোকে ‘ভুয়া’ বলে অভিহিত করেন।
লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল এ বিষয়ে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পেলে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দলের নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অন্যায় বা দখলদারিত্ব বরদাশত করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
এসএইচ/একেবি