জেলা প্রতিনিধি
০৯ মে ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
জনমত উপেক্ষা করে নেসকো কর্তৃক আবাসিক এলাকায় জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রতিবাদে রংপুরে গণঅবস্থান ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির উদ্যোগে প্রেসক্লাব চত্বরে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোজাহার আলীর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগের সঞ্চালনায় সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন সাবেক পৌর চেয়ারম্যান কাজী মোহাম্মদ জুননুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, বাংলার চোখ-এর চেয়ারম্যান তানবীর হোসেন আশরাফী, অ্যাডভোকেট খায়রুল ইসলাম বাপ্পী, নিপীড়ন বিরোধী নারীমঞ্চের আহ্বায়ক বীথি দাস নন্দিনী, সংগঠক কনক রহমান, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আফজাল, ফরহাদুজ্জামান ফারুক এবং কৃষক সংগ্রাম পরিষদের সদস্য আব্দুস সাত্তার প্রামাণিক প্রমুখ।
সমাবেশে অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হলেও গ্রাহক স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে তারা লুটপাটের প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে। নাগরিকদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব হলেও দফায় দফায় দাম বৃদ্ধি ও অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দেশের কৃষি ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে অবিলম্বে এই প্রকল্প বাতিল করা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী গ্রাহক নুরুন্নবী বুলবুল অভিযোগ করেন, প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করার সাথে সাথেই মিটার ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জসহ বিভিন্ন নামে টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। টাকা শেষ হওয়া মাত্রই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। কৃষক প্রতিনিধি আব্দুস সাত্তার প্রামাণিক জানান, এই পদ্ধতি কৃষি অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতি করবে। আগে ফসল ঘরে তোলার পর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের সুযোগ থাকলেও এখন অগ্রিম টাকা ছাড়া সেচ কাজ চালানো সম্ভব হবে না। সাংবাদিক ফরহাদুজ্জামান ফারুক বলেন, প্রিপেইড মিটার জনবান্ধব হলে তা প্রথমে সরকারি দপ্তরগুলোতে স্থাপন করা উচিত ছিল।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধ, বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম-দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ, গণশুনানি ছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ বন্ধ এবং সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই দাবি মানা না হলে আগামীতে নেসকো ঘেরাও ও হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
প্রতিনিধি/একেবি