images

সারাদেশ

চুয়াডাঙ্গায় জন্মনিবন্ধন জালিয়াতি, প্রশাসনিক কর্মকর্তার ভয়ংকর সিন্ডিকেট

জেলা প্রতিনিধি

০৯ মে ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরির একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পেয়েছে প্রশাসন। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রায়হান মাহমুদ (৩৫) ও উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম (৩০) দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলার নাগরিকদের ভুয়া ঠিকানায় জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করে আসছিলেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলার লোকজনকে বেগমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা দেখিয়ে ডিজিটাল জন্মসনদ প্রদান করা হতো।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৭ মে। এক অজ্ঞাত ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসিয়াল নম্বরে অভিযোগ করলে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সরেজমিন তদন্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশ্চিত হন, যাদের নামে জন্মনিবন্ধন করা হয়েছে তারা কেউই বেগমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নন। এমনকি স্থানীয় বাসিন্দারাও তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেননি। আরও জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত নিবন্ধন আইডি অপব্যবহার করে উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম নিজেই জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

e7031a9b-bf58-4ce8-8fae-eea6ecc7fac6

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে অসদুপায়ে জন্মনিবন্ধন তৈরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। প্রশাসনের ধারণা, এই চক্রের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভুয়া জন্মসনদ তৈরি হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে দর্শনা থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। মামলায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ এর একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে দর্শনা থানার ওসি (তদন্ত) হিমেল রানা বলেন, ইউএনও মহোদয়ের তদন্ত শেষে মামলা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহলের দাবি, জন্মনিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সেবায় এমন জালিয়াতি শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতাই নয়, বরং দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।

জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ইতোমধ্যে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুতই পুরো নেটওয়ার্ককে আইনের আওতায় আনা হবে।

প্রতিনিধি/এসএস