images

সারাদেশ

দশমিনায় জমি বিরোধ: হুমকির মুখে শারমিনের স্কুলব্যাগ ও রঙিন স্বপ্ন

জেলা প্রতিনিধি

০৯ মে ২০২৬, ১০:৫০ এএম

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের বিষবাষ্প এবার আছড়ে পড়েছে এক নবম শ্রেণির ছাত্রীর জীবনে। প্রতিপক্ষের ক্রমাগত হুমকি আর আতঙ্কে শারমিন আক্তার নামের ওই কিশোরীর স্কুলে যাওয়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তার বইয়ের পাতার প্রতিটি অক্ষরে এখন যেন লেপ্টে আছে এক অজানা ভয়।

শুক্রবার (৯ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের গরমআলী এলাকায় নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ভীতি ও অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবার।

ভুক্তভোগী শারমিন আক্তার স্থানীয় খারিজমা বেতাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। সে ওই এলাকার দিনমজুর শামীম আকনের মেয়ে। সংবাদ সম্মেলনে শারমিন জানায়, গত বুধবার সকালে তার বাবা কাজের প্রয়োজনে বাউফলের কালাইয়ায় ছিলেন। এই সুযোগে প্রতিবেশী রুস্তম মিয়া তার তিন ছেলে—শাহিন, নাঈম ও ইয়াসিনসহ ১০-১২ জন লোক নিয়ে তাদের বাড়ির পাশের গাছ কেটে জমি দখলের চেষ্টা চালায়।

শারমিন বলে, ‘ওরা যখন ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাদের গাছ কাটছিল, আমি সাহস করে মোবাইলে ভিডিও করার চেষ্টা করি। তখন ওরা আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে আমি কোন স্কুলে পড়ি আর কোন পথ দিয়ে যাতায়াত করি, সেটা নাকি ওরা দেখে নেবে। এরপর থেকে আমি ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছি। সামনে আমার স্কুলে যাওয়াও হয়তো বন্ধ হয়ে যাবে।’

শারমিনের বাবা শামীম আকন জানান, স্থানীয় সালিশে জমিটি তাদের বলে মীমাংসা হলেও রুস্তম মিয়ার পরিবার তা মানছে না। তিনি অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি গরীব মানুষ, দিনমজুরি করে মেয়েটাকে পড়াচ্ছি। জমির বিরোধ নিয়ে আমার মেয়ের শিক্ষাজীবন কেন হুমকির মুখে পড়বে? আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

স্থানীয়রা জানান, রুস্তম মিয়ার পরিবারের সাথে এই জমি নিয়ে বিরোধ অনেক পুরোনো। স্থানীয় মসজিদের ইমাম শহিদুল ইসলাম বলেন, শামীম আকন অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির মানুষ। এর আগেও এই বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এখন একটি মেয়ের স্কুল যাওয়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়াটা পুরো এলাকার জন্য উদ্বেগের।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত রুস্তম মিয়া। তিনি দাবি করেন, ‘আমরা আমাদের কেনা জমি দখলে নিয়েছি। কোনো মারামারি বা কাউকে হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। শারমিনকে হুমকির বিষয়টি সম্পূর্ণ সাজানো ও মিথ্যা।’

এ বিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধ বা ছাত্রীকে হুমকির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। তিনি বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। কোনো শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে দেওয়া হবে না।’

একদিকে জমি দখলের লড়াই, অন্যদিকে এক ছাত্রীর সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দশমিনার এই ঘটনা এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে। শারমিনের স্কুলব্যাগ কি তবে আলমারিতেই তোলা থাকবে, নাকি প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আবারও সে রঙিন স্বপ্ন নিয়ে বিদ্যালয়ের পথে ফিরবে এখন সেটাই দেখার বিষয়।

প্রতিনিধি/একেবি