images

সারাদেশ

ঘুষের দর–কষাকষির অডিও ভাইরাল, এসআই প্রত্যাহারের পর ওসি বদলি

জেলা প্রতিনিধি

০৭ মে ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

অভিযোগে এক এসআই প্রত্যাহারের পর এবার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেনকে বদলি করা হয়েছে।

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় চোরাই ভারতীয় প্রসাধনী পণ্য ছাড়তে চোরাকারবারি ও এসআই-এর ঘুষের দর–কষাকষির ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। 

এ ঘটনায় থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু হানিফকে প্রত্যাহারের পর এবার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেনকে বদলি করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার রাত ১০টার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চোরাকেও এসআই আবু হানিফের কথোপকথনের অন্তত দুটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় রাতেই অভিযুক্ত এসআই মো. আবু হানিফকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেনকে কেন্দুয়া থানার পেমই তদন্ত কেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে।

একই সঙ্গে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।

জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ছড়িয়ে পড়া অডিওটি আমার নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ওসি সিদ্দিক হোসেনকে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এর সঙ্গে অন্য কিছুর সম্পর্ক নেই। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি পিকআপ থেকে ১৮ বস্তা বডি স্প্রে, শ্যাম্পু, অলিভ অয়েলসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করে। এ সময় পিকআপের চালক নাজিরপুরের শিংপুর এলাকার মো. নাছিম (২৩) ও তাঁর সহকারী সেইচাহানি গ্রামের মনির হোসেনকে (২১) আটক করা হয়। পরে ওই দুই যুবকসহ মূলহোতা উপজেলার রাজনগর গ্রামের জসিম উদ্দিনসহ (৩৫) পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়। 

এদিকে, রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে এসআই আবু হানিফের সঙ্গে জসিম উদ্দিনের কথোপকথন শোনা যায়। ৫ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের প্রথম অডিওটিতে জসিমকে বলতে শোনা গেছে- 'স্যার, আপনাকে ৮০ হাজার টাকা দেব। আপনি আমাকে মামলা দিবেন না। শুধু দুই বস্তা মাল আটক দেখাবেন। এ সময় আবু হানিফকে বলতে শোনা যায়-না ভাই, যা বলছি তার কম হবে না। আপনি ৩ লাখ টাকা দেন, আপনার উপকার হবে। তারপর ওই ব্যক্তি বললেন এক লাখ টাকা দিব। ওসি স্যার কিন্তু বিপক্ষে যাবে না। ওসি স্যার বলছেন যেহেতু আমাকে জানিয়ে আপনারা করেছেন, দারোগার সাথে কথা বলেন। তারপর এসআই আবু হানিফ বলেন, একটা জায়গার কথা বলবো সেখানে আপনি তিন লাখ নিয়ে আসেন। এটা আপনার জন্যই ভালো হবে। এরপর আমরা তো আছিই..। ৩ মিনিট ১২ সেকেন্ডের অপর অডিওটিতে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়- আপনি যা করবেন তাড়াতাড়ি করেন। আমি এখন ভবানীপুর ব্রিজ পার হচ্ছি।...যান- আপনার জন্য আমি ছাড় দিলাম আড়াই টাকা নিয়ে আসেন। তখন জসিমকে বলতে শোনা যায় ভাই, আপনি তো ছাড় দিয়েছেন আরেকটু দেন। আমি কষ্ট করে হলেও আপনাকে ২ লাখ টাকা দিচ্ছি। আমারে একটু সময় দেন...। এক পর্যায়ে আবু হানিফ বলেন দেইখেন হোয়াটসঅ্যাপে কথা অন্য ফোনের রেকর্ড করা যায় এটা করবেন না...।' 

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফ ও চোরাকারবারি জসিম উদ্দিনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন বলেন, 'এসব ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

প্রতিনিধি/এজে