নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬ মে ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে জামায়েত ইসলামী সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ।
বুধবার (৬ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
লিখিত বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়।
ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুল আলম অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়ে একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে কাজ করছে। এতে সমিতির ঐতিহ্য ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংগঠনটির অভিযোগ- মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সময় তাদের প্রার্থীরা বাধার মুখে পড়েছেন। অনেককে কমিশন কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে।
এছাড়া, নির্ধারিত তফশিল অনুযায়ী গেল ৫ মে বিকেল ৫টার মধ্যে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও তা করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলেও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নির্বাচন না করে আপোশের মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করার প্রস্তাব দেয় কমিশন। এতে রাজি না হওয়ায় তাদের প্রার্থীদের ওপর চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এছাড়া পুলিশ ও প্রশাসনের মাধ্যমে হয়রানির আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়।
সার্বিক পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে উল্লেখ করে আসন্ন নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন আখ্যা দিয়ে তা বর্জনের ঘোষণা দেয় ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ। একইসঙ্গে বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে আগামী দুই মাসের মধ্যে নতুন, নিরপেক্ষ কমিশন গঠন এবং পুনঃনির্বাচনের দাবি করা হয়।
এর আগে গত ৪ মে সোমবার চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম নিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগপন্থি সম্মিলিত আইনজীবী পরিষদ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনাও সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে এর প্রতিবাদে মুখে কালো কাপড় বেঁধে ঘৃণা মিছিল করেন আওয়ামী লিগপন্থি আইনজীবীরা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনুষ্ঠিত জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনেও আওয়ামী লিগপন্থিদের অংশগ্রহণে বাধার অভিযোগ উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত ওই নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতপন্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালনকারী অ্যাডভোকেট রওশন আরা জানিয়েছেন, এখানে পক্ষপাতিত্ব হচ্ছ না। কাউকে হয়রানিও করা হচ্ছে না। নিয়মানুয়ায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে। যারা পক্ষপাতিত্বের বিষয়ে বলছে, তারা অভিযোগ থাকলে আমাদের বলুক। সেটা আমরা দেখব।
প্রতিনিধি/ এজে