জেলা প্রতিনিধি
০৬ মে ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
মেহেরপুরের গাংনী বাজারে উঠতে শুরু করেছে অপরিপক্ব মোজাফফরপুরী (আঁটি) লিচু। স্বাদে টক হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহ কম থাকলেও দাম রয়েছে তুলনামূলক চড়া।
বুধবার (৬ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, গাংনী বাসস্ট্যান্ড, বামন্দি, সাহারবাটি, জোড়পুকুরিয়া, নওপাড়া ও ধানখোলা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে বসে অপরিপক্ব লিচু বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। মৌসুমের প্রথম ফল হিসেবে লালচে রং ধারণ করায় অনেকেই শখ করে বেশি দামে এসব লিচু কিনছেন।
ক্রেতা সাঈদ হাসান বলেন, এগুলো আশপাশ এলাকার অপরিপক্ব আঁটি লিচু। প্রতিবছরই আগে ওঠে। তবে এবার স্বাদ পুরোপুরি মিষ্টি না হওয়ায় ক্রেতা কম। গত বছর ১০০-১৪০ টাকার লিচু এবার ২০০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
লিচু বিক্রেতা খলিলুর রহমান জানান, সারা বছর অন্য ব্যবসা করি, এ সময় আম-লিচু বিক্রি করি। আজ সকালে ১ হাজার লিচু এনেছিলাম, বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রায় ৫০০ লিচু বিক্রি হয়েছে।”
চৌগাছা গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ বলেন, বাজারে লিচুর সরবরাহ থাকলেও ক্রেতা কম। তাই কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান মালসাদহের শিপন আলী, রামকৃষ্ণপুর ধলার আলমগীর ও সাহারবাটির উজ্জ্বলসহ অন্যান্য বিক্রেতারাও।
শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার আজমুল বারী রতন বলেন, অনাবৃষ্টির কারণে এ বছর ফলন কম, দাম বেশি। অপরিপক্ব লিচু স্বাদে কিছুটা টক হওয়ায় প্রথমে কিনিনি, এখন কিছুটা ভালো লাগছে।
গাংনী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১২৫ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯১৫ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ২০ হেক্টরে মোজাফফরপুরী, ৮০ হেক্টরে বোম্বাই এবং ২৫ হেক্টরে চায়না-থ্রি জাতের লিচু রয়েছে।
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান বলেন, বর্তমানে বাজারে যে লিচু পাওয়া যাচ্ছে তা অপরিপক্ব মোজাফফরপুরী বা আঁটি লিচু। ভালো দামের আশায়, পোকার আক্রমণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এড়াতে আগাম তোলা হচ্ছে। এসব লিচু পুরোপুরি মিষ্টি হয় না এবং বীজ বড় হয়।
তিনি আরও জানান, আগামী ১৩-১৫ মে’র মধ্যে উন্নত মানের মোজাফফরপুরী লিচু বাজারে আসবে। ২০-২৫ মে বোম্বাই এবং জুনের প্রথম সপ্তাহে চায়না-থ্রি জাতের লিচু বাজারে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিনিধি/ এজে