images

সারাদেশ

নেত্রকোনায় স্ত্রীর যৌতুক-নির্যাতনের মামলায় ব্যাংক কর্মকর্তা কারাগারে

জেলা প্রতিনিধি

০৬ মে ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম

নেত্রকোনায় স্ত্রীর করা যৌতুক ও নির্যাতনের মামলায় জাকির আহমেদ (৩৮) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বুধবার (৬ মে) সকালে উভয় পক্ষে শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহসিনা ইসলাম আসামি জাকির আহমেদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহেল তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত জাকির আহমেদ নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার ইসপিন্জাপুর গ্রামের মো. আলকাস উদ্দিনের ছেলে। তিনি কলমাকান্দা উপজেলার সোনালী ব্যাংক শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলার বাদী হয়েছেন স্ত্রী মাহফুজা নাসরিন মুন্নী (৩৫)। তিনি নেত্রকোনা সদর উপজেলার কুরপাড় এলাকার মাজহারুল ইসলামের মেয়ে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৩ জুলাই ইসলামী শরিয়ত ও রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে জাকির আহমেদের সঙ্গে মাহফুজা নাসরিন মুন্নীর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্বর্ণালংকার, মোটরসাইকেল, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন উপঢৌকন দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

বাদীর দাবি, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনার কথা বলে শ্বশুরের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করতে থাকেন। টাকা না দেওয়ায় স্ত্রী মুন্নিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো।

মামলায় আরও বলা হয়, পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে ২০২০ সালের ২১ ডিসেম্বর অভিযুক্ত জাকির স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে রেখে যান। এরপর থেকে তিনি স্ত্রী ও সন্তানের কোনো খোঁজখবর নেননি। তাদের সাত বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। কন্যা সন্তানটি বিরল চোখের রোগে আক্রান্ত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে আরও জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। পরে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর বিকেলে নেত্রকোনা শহরের কুড়পাড় এলাকায় বাদীর বাবার বাড়িতে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বৈঠক বসে। সেখানে আবারও ৩০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।

বাদীর ভাষ্য, ওই বৈঠকে তিনি যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতার কথা জানালে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং টাকা না দিলে সংসার করবেন না বলে জানিয়ে চলে যান। একই সঙ্গে যৌতুক না পেলে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করার হুমকিও দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাকির আহমেদ বলেছেন, আমি কোনো যৌতুক দাবি করিনি। আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

নেত্রকোনা সোনালী ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ফৌজদারি মামলায় কোনো কর্মকর্তা জেল হাজতে গেলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চাকরিতে যোগদান করতে পারবেন না।

প্রতিনিধি/এসএস