images

সারাদেশ

নেত্রকোনায় ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে গ্রেফতার ২

জেলা প্রতিনিধি

০৬ মে ২০২৬, ০৮:০৫ এএম

নেত্রকোনা শহরে মানববন্ধন ও ঝটিকা মিছিল থেকে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের দুই নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৫ মে) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এরআগে ভোরে শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় জেলা প্রেসক্লাবের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন— নেত্রকোনা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ আল রাকিব ও ছাত্রলীগ কর্মী মো সাব্বির।

এদিকে, ছাত্রলীগের মানববন্ধন ও ঝটিকা মিছিলের একটি ভিডিও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতা-কর্মীর ফেসবুকে শেয়ার করা হয়েছে। সেখানে ছাত্রলীগের দুই নেতাকে আটকের নিন্দা ও তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়।

শেয়ার করা এক মিনিট দুই সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ১০ থেকে ১৫ জন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন। সৈয়দ আল রাকিব ছাড়া অন্য নেতা-কর্মীদের মুখে কালো মাক্স ছিল, কারো মাথায় হেলমেট ছিল। ভিডিওতে মানববন্ধনের ব্যানারে লেখা ছিল ‘দেশবিরোধী মার্কিন চুক্তি বাতিল, বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসন, কৃত্রিম জ্বালানি সংকট ও অব্যবস্থাপনা, লুটপাট, গণতন্ত্রহীনতা এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও মিছিল’

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সৈয়দ আল রাকিবকে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে বলতে শোনা যায়, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল নেতা-কর্মীদের ওপর আরোপিত সকল মিথ্যা মামলা তুলে নিতে হবে। সেই সঙ্গে সোন অ্যারেস্টের নামে যে আইনদারিদ্র্য শুরু হয়েছে তা বন্ধ করতে হবে। এই মানববন্ধনের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, যুবলীগ আওয়ামী লীগের উপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপন করা হয়েছে তা তুলে নিতে হবে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় বাংলাদেশ পুলিশসহ আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতা-কর্মীদের খুন, গুম, ধর্ষণ, নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমাদের মানববন্ধন। নেত্রকোনা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ এই মানববন্ধনের আয়োজন করেছে। শেখ হাসিনা বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশে।’ শেষে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলে মানববন্ধন শেষ করে মিছিল শুরু করা হয়। পরে পুলিশ প্রেসক্লাব থেকে প্রায় ১০০ .গজ দূরে বকুলতলা এলাকা থেকে সৈয়দ আল রাকিব ও মো সাব্বির নামের ছাত্রলীগের এক কর্মীকে আটক করে।

এ ঘটনায় নেত্রকোনা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এস আই) মো. আকমল হোসেন বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন। মামলায় সৈয়দ আল রাকিবকে প্রধান করে ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাত আরো ১০ জনকে আসামি করা হয়।

এ ব্যাপারে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আল মামুন সরকার বলেন, ওই ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে ঘটনায় জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করে। পরে দায়ের করার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিনিধি/টিবি