জেলা প্রতিনিধি
০৬ মে ২০২৬, ১২:৩৪ এএম
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সশস্ত্রগোষ্ঠী আরসার সন্ত্রাসীদের গুলিতে আরেক রোহিঙ্গা সশস্ত্রগোষ্ঠী এআরও’র কমান্ডার কেফায়েত উল্লাহ (৪৫) নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন আরও দুজন।
মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যায় উখিয়ার বালুখালী আশ্রয়শিবিরে তরজার ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কেফায়েত বালুখালী আশ্রয়শিবিরের ক্যাম্প-৭-এর এফ-২ ব্লকের বাসিন্দা বাদশা মিয়ার ছেলে। গুলিবিদ্ধ দুজন একই আশ্রয়শিবিরের এ-৪ ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ উল্লাহ (৩৭) ও জি ব্লকের নুর মোহাম্মদ (৩২)। তারা এআরও’র সদস্য।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে কেফায়েত উল্লাহসহ তিনজন মোটরসাইকেলে করে আরেক ক্যাম্প থেকে নিজেদের ক্যাম্পে ফিরছিলেন। পথে তরজার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। এতে তিনজনই গুলিবিদ্ধ হন।
পুলিশ ও রোহিঙ্গা নেতারা জানান, আশ্রয়শিবিরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সশস্ত্রগোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যরা গুলি চালান।
নিহত কেফায়েত উল্লাহ হালিম আরাকান রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন (এআরও) নামের একটি বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। তার নেতৃত্বে এআরও আশ্রয়শিবিরে আরসাবিরোধী তৎপরতায় যুক্ত ছিল। এর আগে একবার গুলিবিদ্ধও হয়েছিলেন তিনি।
পুলিশ জানায়, সন্ধ্যা সাতটার দিকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) নৌকার মাঠ পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় গুলিবিদ্ধ তিনজনকে উদ্ধার করে আশ্রয়শিবিরের ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে নিয়ে যান।
পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত আটটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কেফায়েত উল্লাহ মারা যান।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম ও অপারেশন) মো. ওয়াহিদুর রহমান বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে আরসা সদস্যরা কেফায়েতকে গুলি করে হত্যা করেছে। আশ্রয়শিবিরে তিনি এআরও নামে একটি বাহিনী গড়ে তুলে আরসাবিরোধী তৎপরতা চালাতেন।
ওয়াহিদুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে এবং এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এক রোহিঙ্গা নেতা জানান, কেফায়েত উল্লাহ আগে আরসার সঙ্গে যুক্ত ছিল। দেড় বছর আগে সংগঠনটি ছেড়ে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলেন। পরে সেটি বিলুপ্ত করে এআরও নামে নতুন সংগঠন গড়েন। সেটির সদস্য সংগ্রহ নিয়েই আরসার সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল।
এএইচ