images

সারাদেশ

সাবেক স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্ত অনলাইনে, মামলার পর যুবদল নেতার হয়রানি

জেলা প্রতিনিধি

০৫ মে ২০২৬, ১১:০৪ পিএম

জামালপুরের ইসলামপুরে প্রাক্তন স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে যুবদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক নারী। তবে মামলা করার পর উল্টো হুমকি ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে ইসলামপুর উপজেলার চিনারচর এলাকায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের ব্যানারে মানববন্ধন হয়। এতে বক্তারা অভিযুক্তদের যুবদল থেকে বহিষ্কার ও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

অভিযুক্ত শাহানুর রহমান পলাশ চরপুটিমারী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব। তিনি ভুক্তভোগী নারীর প্রাক্তন স্বামী। অপর অভিযুক্ত আব্দুল কুদ্দুস একই ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, আব্দুল কুদ্দুস দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং শাহানুর রহমান পলাশ জুয়া ও নারীসংক্রান্ত নানা কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁদের কর্মকাণ্ডে এলাকায় সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে পলাশের বিয়ে হয়েছিল এবং প্রায় এক বছর পর তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করে পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দেওয়ায় ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

তিনি জানান, এ ঘটনায় গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ময়মনসিংহ সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন। মামলা তুলে নিতে পলাশ তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে শাহানুর রহমান পলাশ বলেন, তাঁকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করতে প্রতিপক্ষরা তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীকে দিয়ে এসব করাচ্ছে। ছবি ও ভিডিও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করেননি। মাদক ব্যবসার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

অন্য অভিযুক্ত আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ওই নারীকে তিনি চিনতেন না। পরে জানতে পারেন, তিনি পলাশের স্ত্রী ছিলেন। ছবি বা ভিডিও সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা নেই। তিনি দাবি করেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ায় প্রতিপক্ষরা তাঁকে ফাঁসাতে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।

ইসলামপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তাঁদের জানা আছে। জেলা থেকে তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সজীব খান বলেন, প্রায় এক মাস আগে বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে। উপজেলা নেতাদের তদন্ত করে প্রস্তাবনা পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রস্তাবনা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ইসলামপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, এখনো থানায় মামলার কোনো নথি আসেনি। এলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এআর