জেলা প্রতিনিধি
০৩ মে ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানে কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের স্থান হবে না। কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে সরাসরি তাদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে ব্যাংকের মাধ্যমে পাওনা পরিশোধ করা হবে।
আজ রোববার জেলা শহরের মোক্তারপাড়ায় পাবলিক হলে ২০২৬ মৌসুমের অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, প্রধানমন্ত্রী কৃষক ভাইদের জন্য ‘ভেরি মাচ কনসার্ন’। গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষ যাতে তাদের ন্যূনতম প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো পায়, সেজন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের প্রধানদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যার কারণে কৃষকের ক্ষতির কথা বিবেচনা করে আমরা ধান সংগ্রহ কার্যক্রম এগিয়ে আনা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ধান সংগ্রহের জন্য প্রস্তুতি রয়েছে।
গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনকি আগামী জুলাই থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারিভাবে পোশাক সরবরাহের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত হয়েছে। এই প্রতিটি উদ্যোগই গ্রামীণ মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য।
ধান সংগ্রহ অভিযান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবার ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কৃষকরা যত পরিমাণ ধান দিতে পারবে, আমরা তত পরিমাণই সংগ্রহ করব। আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ধান ও চাল এবার সংগৃহীত হবে। কৃষকরা যাতে ধানের প্রকৃত দাম পায়, সেটিই সরকারের মূল লক্ষ্য।’
বন্যার কারণে হাওর অঞ্চলের বিশেষ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, সুনামগঞ্জ ও সিলেটসহ হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যার কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ধান সংগ্রহের তারিখ ১৫ তারিখ থেকে এগিয়ে আনা হয়েছে। কৃষকরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে সরকার সব পদক্ষেপ নিয়েছে।
সংগ্রহ কার্যক্রমে কোনো সমস্যা হলে তা দ্রুত কন্ট্রোল রুম বা স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বিষয়টি তদারকি করছেন। সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষক যাতে সরাসরি ধান দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নেত্রকোণা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক, নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মু. জসীম উদ্দিন খান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম এবং নেত্রকোণা জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. নুরুজ্জামান (নুরু)।
জেলা খাদ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবছর ৩৬ টাকা কেজি দরে ২০ হাজার ৪১৫ মেট্রিক টন ধান এবং ৪৯ টাকা কেজি দরে ৫৫ হাজার ৫৮৫ মেট্রিক টন বোরো সিদ্ধ চাল কিনবে সরকার। যা জেলার ১০ উপজেলার ৭৭ জন ডিলারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।
/এএস