জেলা প্রতিনিধি
০৩ মে ২০২৬, ১১:০৪ এএম
যশোর পৌরসভার পাড়া-মহল্লার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্ত কাদা পানিতে ডুবে থাকে, আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলায় ছেয়ে যায় পুরো সড়ক। ফলে চরম ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছেন কয়েক হাজার মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বকচর তাতিপাড়া রোড, শংকরপুর বাস টার্মিনাল সড়ক, চাঁচড়া বাজার মোড়, বেজপাড়া নলডাঙ্গা নতুন বাজার রোড, তালতলা কবরস্থান সড়ক এবং এম এম কলেজ দক্ষিণ গেট সড়কের অধিকাংশ অংশের পিচ উঠে গিয়ে ইটের খোয়া বেরিয়ে এসেছে। এসব সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও গর্ত ভরাটে ভাঙা ইট ফেলা হলেও তা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থেকে ভোগান্তি আরও বাড়িয়েছে। এর মধ্যেই ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, ইজিবাইক ও রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এসব সড়কে চলাচল করা এখন নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। বর্ষা মৌসুমে সড়কগুলো কাদা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে ড্রেন ও খানা খন্দ সড়ক একাকার হয়ে যায়।

বকচর তাতিপাড়া রোডে চার বছর ধরে রিকশা চালান নিজাম উদ্দিন। তিনি বলেন, বর্ষাকালে এই রাস্তায় চলাচল করা খুবই কঠিন। এখন পর্যন্ত দুইবার যাত্রীসহ রিকশা উল্টে গিয়েছে। গত বছর গর্তে জমে থাকা পানিতে রিকশা উল্টে এক নারী পথচারীর পা ভেঙে যায়। সরকার বদলায়, কিন্তু আমাদের এলাকার রাস্তার কোনো পরিবর্তন হয় না।
এম এম কলেজ দক্ষিণ গেট এলাকার মুদিদোকানি কামাল মিয়া বলেন, আমার দোকান রাস্তার পাশে হওয়ায় সমস্যা আরও বেশি। বছরের ছয় থেকে সাত মাস এই রাস্তায় পানি জমে থাকে। বর্ষায় পানি, আর শীতে ধুলা-দুই সময়ই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
শংকরপুর বাস টার্মিনাল সড়ক ও চাঁচড়া বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় খানা-খন্দ তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি সময়ে পানিতে এসব গর্ত ভরে থাকায় কোথায় কতটা গভীর গর্ত তা বোঝা যায় না। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
রিকশাচালক সেলিম বলেন, প্রায় এক বছর ধরে এই রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে। মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনায় পড়তে হয়।
ইজিবাইকচালক মানিকের ভাষ্য, আগে যশোর পৌরসভার রাস্তা মোটামুটি ভালো ছিল। কিন্তু দেড় বছর ধরে পাড়া-মহল্লার রাস্তাগুলো একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। সারাদেশে উন্নয়ন হলেও আমাদের এলাকায় কাজ হচ্ছে না।

বেজপাড়া নলডাঙ্গা নতুন বাজার রোডের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বহু মানুষ চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার হয়নি। ফলে প্রতিদিন ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই আছে। শিশুদের জন্য এটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা সাকিলা আফরোজ জানান, বৃষ্টির সময় এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তখন ভাঙা সড়কে চলাচল করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে ওঠে। পানি শুকাতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগে, এই সময়টায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। একই অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা খোকন শেখ, মোহাম্মদ সেলি ও মিজানুর রহমানসহ আরও অনেকে।
শহরের খড়কী শাহ আবদুল করিম সড়কের বাসিন্দা মোস্তফা কামাল বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান পানি জমে যায়। রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। তখন এই ভাঙা রাস্তায় চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে যশোর জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) রফিকুল হাসান বলেন, রাস্তাঘাট মেরামতের জন্য পৌরসভার ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছে। দ্রুত সমাধান হবে। ’
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কগুলোর সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সংস্কার না হলে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পৌরবাসী। তাদের দাবি, দ্রুত সড়কগুলো সংস্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘব করা হোক।
প্রতিনিধি/এসএস