জেলা প্রতিনিধি
০৩ মে ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
সাভারে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় গ্রেফতার হয়ে আপস মিমাংসার শর্তে জামিনে এসে স্ত্রীকে দিলেন তালাক। সেই সঙ্গে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আতিক হাসান (২০) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সাভার মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন ভুক্তভোগীর বাবা মো. সুরুজ মিয়া।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১১ অক্টোবর সাভার পৌর এলাকার রাড়িবাড়ির বাসিন্দা আতিক হাসানের সঙ্গে বাড্ডা এলাকার খাদিজা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির প্ররোচনায় যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী।
পরবর্তীতে গ্রেফতার হয়ে আদালতে সোপর্দ হলে আপস মীমাংসার শর্তে এক হাজার টাকার বন্ডে জামিন পান আতিক। তবে অভিযোগ রয়েছে, জামিনে বেরিয়েই মামলা তুলে নিতে চাপ ও হুমকি দিতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে গত ২৩ ডিসেম্বর স্ত্রীকে মারধর করে তালাক দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, বিয়ের সময় নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১৩ লাখ টাকার বেশি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না করায় নির্যাতন বাড়ানো হয়।
ভুক্তভোগী খাদিজা আক্তার অভিযোগ করেন, স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর ও যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া হয়। মামলা করার পর আপসের আশ্বাস দিয়ে জামিনে এসে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তের মা নিলুফা বেগম বলেন, মেয়ে পক্ষের অভিযোগ মিথ্যা এবং তাদের ছেলে তালাক দিয়েছে।
এ বিষয়ে আইনজীবী শফিক আহমেদ বলেন, আপসের শর্ত ভঙ্গ করলে আদালতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খালেদা আক্তার জাহান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে উভয় পক্ষকে ডাকা হলেও ছেলে পক্ষ উপস্থিত হয়নি, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস