জেলা প্রতিনিধি
০২ মে ২০২৬, ১০:২৪ এএম
সংসদ নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২ মে) সকাল ১০টার দিকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আকাশপথে ঢাকা থেকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।
সেখানে পৌঁছে তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরে বেলা ১১টার দিকে সিলেট সার্কিট হাউস–সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের চাঁদনিঘাট এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন। বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশ ওভারসিজ সেন্টার সিলেটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
দুপুর ১২টায় সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাসিয়া খাল (বাসিয়া নদী) খননকাজের উদ্বোধন করবেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে এই খাল উদ্বোধন করেছিলেন।
বেলা তিনটায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিশু ও কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। বিকেল পাঁচটায় দলীয় এক সভায় যোগ দিয়ে তিনি ঢাকায় ফিরবেন।
সরকারপ্রধান ও সিলেটের জামাইকে বরণ করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পুরো নগরজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
তারেক রহমানের সফর ঘিরে সিলেট নগরের প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বিভিন্ন স্থাপনাকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। রাস্তা মেরামত, সড়কের পাশে গাছপালা ছাঁটাই এবং সরকারি ভবনের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন অপ্রয়োজনীয় ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করেছে।
সিলেট সার্কিট হাউস-সংলগ্ন চাঁদনীঘাট এলাকায় নতুন করে সাজসজ্জার কাজ করা হয়। নগর ভবনে তৈরি করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন প্যান্ডেল।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মাঠে কাজ করছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং প্রটোকল অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সফরের প্রতিটি কর্মসূচির স্থান আগেভাগেই প্রস্তুত রাখা হচ্ছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। নগরের বিভিন্ন স্থানে স্বাগত ব্যানার, আলোকসজ্জা এবং দলীয় কর্মসূচির কারণে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বাগত মিছিলও বের করা হচ্ছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী মূলত খেলাধুলা উদ্বোধন করতে সিলেটে আসছেন। পাশাপাশি বাসিয়া নদীর পুনঃখনন এবং সিটি করপোরেশনের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। বক্তব্য দেবেন সুধী সমাবেশেও। প্রবাসীদের জন্য ওভারসিজ সেন্টার ও প্রবাসী কল্যাণ ভবনের উদ্বোধনও তার কর্মসূচিতে রয়েছে। সব ভেন্যুর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ডিবি, সিটিএসবি সহ একাধিক ইউনিট কাজ করছে। ভিভিআইপি নিরাপত্তার স্বার্থে নির্ধারিত রুট ও ভেন্যুর ৫০০ মিটার পরিধি এবং দুই কিলোমিটার উচ্চতায় ড্রোন ও উড্ডয়ন যান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এমআর