জেলা প্রতিনিধি
০১ মে ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে সচল হয়েছে টেকনাফ স্থলবন্দর।
শুক্রবার (১ মে) দুপুরে মিয়ানমার থেকে কাঠবোঝাই একটি ট্রলার বন্দরে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে দুই দেশের এই সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্য কেন্দ্রটি সচল হওয়ায় ব্যবসায়ী ও বন্দর শ্রমিকদের মাঝে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে প্রাণচাঞ্চল্য ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকার হ্যায়েনখালী খাল থেকে কাঠবোঝাই একটি ট্রলার টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। দুপুর দেড়টার দিকে ট্রলারটি টেকনাফ স্থলবন্দরের জেটিতে এসে পৌঁছালে বন্দরের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা সেটিকে স্বাগত জানান। আমদানিকৃত কাঠের এই চালানটি টেকনাফের স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. ফারুকের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
টেকনাফ স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেড-এর মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘একটি কাঠবোঝাই ট্রলার বন্দরে আসার মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। এটি বন্দরের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক। আমরা আশা করছি এখন থেকে নিয়মিত পণ্যবাহী নৌযান আসবে।’
বন্দর সচল হওয়ার খবরে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত কয়েক হাজার সাধারণ শ্রমিক। টেকনাফ স্থলবন্দরের শ্রমিক নেতা (মাঝি) শামসুল আলম বলেন, ‘দীর্ঘ এক বছর পর বন্দরে বোট এসেছে। কাজ বন্ধ থাকায় আমরা পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে ছিলাম। এখন আবার কাজ শুরু করতে পারব ভেবে ভালো লাগছে।’
ব্যবসায়ীরাও মনে করছেন, নিয়মিত আমদানি-রফতানি শুরু হলে গত এক বছরের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সরকারি বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’র মধ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের কারণে এই সীমান্ত বাণিজ্যে ধস নামে। প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকায় নাফ নদীর নৌপথটিও তাদের কবজায় চলে যায়। গত বছরের এপ্রিল মাসে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে কমিশন ও চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে আরাকান আর্মির বাধার মুখে মিয়ানমারের জান্তা সরকার সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। এর ফলে বাংলাদেশ সরকার প্রায় ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারায় এবং কয়েকশ ব্যবসায়ী ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন।
গত ১৪ এপ্রিল টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শনে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সে সময় তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বন্দরটি সচল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই সফরের পর কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতায় অবশেষে এই অচলাবস্থা কাটল।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কাঠবোঝাই এই ট্রলারের আগমন কেবল একটি চালানের বিষয় নয়, বরং এটি মিয়ানমার-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের একটি শক্তিশালী সংকেত।
প্রতিনিধি/একেবি