উপজেলা প্রতিনিধি
০১ মে ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
ঢাকার দোহার উপজেলায় চিকিৎসকের ভুলে রানু বেগম (৬০) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১ মে) বেলা ১২টার দিকে লটাখোলা করম আলী মোড় এলাকায় ডিএন মেডিকেল সার্ভিসেস হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। রানু আক্তার দোহার উপজেলার মাহতাব নগর এলাকার আমিন চোকদারের স্ত্রী। রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুর করেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রানু আক্তার পিত্তথলি পাথরের অপারেশনের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। আজ সকাল ১০টার দিকে সার্জন ডা. আশরাফুল ইসলামের অধীনে তাকে অপারেশনের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার পর ২ ঘণ্টা পর রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে হাসপাতালের নার্স ও ডাক্তাররা ছুটোছুটি করলে রোগীর আত্মীয়-স্বজনদের বিষয়টি সন্দেহ হয়। রোগীর স্বজনেরা রোগীর কাছে গিয়ে দেখে, রোগী মারা গেছে।
খরব পেয়ে রোগীর আত্মীয়-স্বজন হাসপাতালে এসে বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর করে। এ সময় হাসপাতালের নার্স ও চিকিৎসকরা পালিয়ে যায় বলে জানান রোগীর স্বজনরা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রানু আক্তারের ছেলের বউ লিমা বেগম জানান, আমাদের এলাকার পল্লী চিকিৎসক আব্দুল মজিদ আমার শাশুড়ির পিত্তথলির পাথর অপারেশনের জন্য ৩০ হাজার টাকা চুক্তিতে অপারেশন করা হয়। আমার শাশুড়ি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকার পরও কেন মারা গেল তা আমাদের কাছে পরিষ্কার করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসকের ভুলে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। আমরা অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিচার দাবি করছি।
নিহতের ছেলে সাজ্জাদ জানান, আমার মা পিত্তথলির পাথর হলে শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ ছিল। চিকিৎসকদের ভুলে আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আমরা বিচার দাবি করছি। বেলা ৩টার দিকে হাসপাতাল থেকে রানুর লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের জন্য বাড়িতে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের ইনচার্জ তৈয়ব আকন্দ জানান, পিত্তথলির পাথর অপারেশনের করা হলে রোগী আকস্মিকভাবে মারা যায়। তবে কী কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুবকর সিদ্দিক জানান, খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। এখনও পর্যন্ত অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে আইনানুগর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিনিধি/এসএস