images

সারাদেশ

‘এবারকার মতো ঠান্ডা ঢলের পানি আগে দেখিনি’

৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢল আর অবিরাম বর্ষণে সুনামগঞ্জের বুক চিরে বয়ে যাওয়া নদ-নদীগুলোর পানি এখন বিপৎসীমার কাছাকাছি। চোখের সামনে তলিয়ে যাচ্ছে মাইলের পর মাইল বোরো ফসলের মাঠ। প্রকৃতির এই রুদ্ররূপের মধ্যেই কোমর সমান ঠান্ডা পানিতে নেমে শেষ সম্বলটুকু ঘরে তুলতে জীবনপণ লড়াই করছেন হাওরের হাজারো কৃষক। 

একদিকে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা ঢল, অন্যদিকে তীব্র বাতাস সব বাধা উপেক্ষা করেই এখন চলছে ফসল রক্ষার শেষ আকুতি।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি বেড়েছে ১৮ সেন্টিমিটার। শুধু সুরমা নয়, জেলার কুশিয়ারা, নলজুর, পাটলাই, যাদুকাটা, খাসিয়ামারা ও বৌলাইসহ ছোট-বড় সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নদীর উপচে পড়া পানি দ্রুত প্রবেশ করছে হাওরগুলোতে। সদর উপজেলা থেকে শুরু করে ধর্মপাশা কিংবা তাহিরপুর—জেলায় প্রতিটি হাওরেই এখন শুধু থৈ থৈ পানি আর কৃষকের হাহাকার।

সদর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের কৃষক বশির মিয়া (৪৫) তার দুই একর জমির ধান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। শ্রমিক না পাওয়ায় বুধবার ছোট ছেলেকে নিয়ে নিজেই নেমেছেন ধান কাটতে। তিনি বলেন, ‘ইবারের লাখান ঠান্ডা ঢলের পানি আগে দেখছিনা। হাত-পাও টাখরি (অবশ) লাগাইদেয়। পানিত থাকা যায় না, এর লগে আছে বাতাস। তবুও ধান না কাটলে খামু কী?’ বশির মিয়ার মতো এমন হাজারো কৃষকের গল্প এখন সুনামগঞ্জের ঘরে ঘরে।

Sunamganj-Haor-Dhaka-mail-5

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাওরে প্রায় ৯ হাজার ৫৭ হেক্টর জমির ধান সরাসরি পানিতে তলিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ২ হাজার ৪৭ হেক্টর। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন বলে দাবি করছেন কৃষকরা। হাওর আন্দোলনের কর্মীদের মতে, সরকারি এই হিসাবের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। তাদের দাবি, অন্তত ৫০ শতাংশ ধান ইতিমধ্যেই প্রতিকূল আবহাওয়ার কবলে পড়ে নষ্ট হওয়ার পথে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মৌসিনরামে অত্যধিক বৃষ্টিপাতের কারণেই এই আগাম ঢল নামছে। তবে গত দুই দিন বৃষ্টি কিছুটা কম হওয়ায় ধান কাটার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফারুক আহাম্মেদ কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, ‘কাটা ধান যেন কোনোভাবেই খোলা মাঠে রাখা না হয়। ভেজা ধান বস্তাবন্দি না করে ঘরের মেঝে বা উঁচু পাকা সড়কে ছড়িয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে বৈদ্যুতিক পাখার বাতাস দিয়ে ধান শুকানোর ব্যবস্থা করতে হবে।’

Sunamganj-Haor-Dhaka-mail

জেলায় এবার ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত গড়ে ৪৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে নিচু এলাকার ধান অর্ধেকের বেশি কাটলেও উঁচু এলাকার ধান এখনো কাঁচা। ক্রমাগত পানি বাড়তে থাকলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে না এলে বাকি ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

প্রতিনিধি/একেবি