জেলা প্রতিনিধি
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৩ এএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক চিকিৎসক দম্পত্তির বিরুদ্ধে আয়েশা (১০) নামে শিশু গৃহকর্মীকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী ওই শিশু গৃহকর্মীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার দেহের বিভিন্ন অংশে নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।
ভুক্তভোগী আয়েশা জেলার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল এলাকার রাকিব মিয়ার মেয়ে।
শিশুটির পরিবার জানায়, ৯ মাস আগে নানার মাধ্যমে আয়েশাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তর মৌড়াইল এলাকান বাসিন্দা চিকিৎসক নোমান ও কিমিয়া সাদাত তোফার ঘরে কাজের জন্য দেন। তবে গত তিন মাস ধরে পরিবারের লোকজন আয়েশার সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে সেটি দেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি ওই চিকিৎসক দম্পতি আয়েশার পরিবারকে জানায়, সে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। এরপর পরিবারের লোকজন আয়েশার কোনো খোঁজখবর না পেয়ে গত ২৬ এপ্রিল সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এর প্রেক্ষিতে বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে পুলিশ ওই চিকিৎসক দম্পতির পাশের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়। এরপর সন্ধ্যায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিশুটির বাবা রাকিব মিয়ার অভিযোগ, আয়েশাকে বিভিন্ন সময় কাজের জন্য নির্যাতন করা হতো। তার শরীরজুড়ে ক্ষতচিহ্ন দৃশ্যমান। তিনি এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসক নোমানের দাবি, তার স্ত্রী চিকিৎসক তোফা গর্ভবতী হওয়ায় তার দুই শিশুকে দেখাশোনা করার জন্য আয়েশাকে তিনি তার ঘরে নিয়ে এসেছিলেন। সম্প্রতি তিনি ট্রেনিংয়ের জন্য ফিলিপাইনে ছিলেন।
এই চিকিৎসক আরও দাবি করেন, গত ২২ এপ্রিল আয়েশা তাদের ঘর থেকে দুই ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৭০ হাজার টাকা চুরি করে পালিয়ে যায়। এ খবর পেয়ে তিনি ফিলিপাইন থেকে ছুটে আসেন। এ ঘটনায় সদর থানায় তিনি অভিযোগও দায়ের করেছেন বলে জানান।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, আয়েশার নিখোঁজ সংক্রান্ত বিষয়ে দায়ের করা সাধারণ ডায়েরির আলোকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘শিশুটিকে নির্যাতনের বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এএইচ