images

সারাদেশ

কক্সবাজারে বিপাকে পর্যটক, বজ্রপাত ও গাছচাপায় নিহত ২

জেলা প্রতিনিধি

২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে কক্সবাজারে টানা বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। গত দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না; সারাদিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি, আবার কখনও ভারী বর্ষণ আকারে অব্যাহত রয়েছে। বুধবার দুপুরের পর থেকে মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে উপকূলজুড়ে বইছে ঝোড়ো হাওয়া।

এই বৈরি আবহাওয়ার মধ্যে পৃথক ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী এলাকায় বজ্রপাতে রমিজ উদ্দিন (৪৫) নামে এক লবণচাষির মৃত্যু হয়। একই দিনে রামু উপজেলার ঈদগড় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ায় গাছ চাপা পড়ে মাইমুনা বেগম (১৯) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ প্রাণ হারান।

অবিরাম বৃষ্টিতে উপকূলীয় লবণ উৎপাদন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলার সাত উপজেলায় প্রায় ৬০ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হলেও বৈরি আবহাওয়ার কারণে চাষিরা মাঠে নামতে পারছেন না। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অনেক স্থানে উৎপাদিত লবণ বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।

আবহাওয়া অধিদফতর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্যের কারণে অস্থির আবহাওয়া বিরাজ করছে। এর প্রভাবে কক্সবাজারসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার দিন ভারী বৃষ্টি ও বজ্রমেঘের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। অতিবর্ষণের কারণে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে।

বৈরি আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সকাল থেকেই গুমোট আবহাওয়া, ঝোড়ো হাওয়া ও থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে অনেক পর্যটক হোটেল কক্ষেই অবস্থান করছেন। তবে কিছু পর্যটক ঝুঁকি উপেক্ষা করেই উত্তাল সাগর দেখতে সৈকতে ভিড় করছেন।

লঘুচাপের প্রভাবে গত দুই দিন ধরে সাগর উত্তাল থাকায় সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে পর্যটকদের সমুদ্রে নামতে সতর্ক করা হচ্ছে। দায়িত্বে থাকা লাইফগার্ড, বিচকর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্যরা মাইকিং করে নিরন্তর সতর্কতা জারি রেখেছেন।

ইনানী সৈকতের দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের বিচকর্মীদের সহকারী সুপারভাইজার বেলাল হোসেন জানান, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত থাকায় পর্যটকদের গোসলে নামা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

সি সেফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার ওসমান গনি বলেন গত দুই দিন ধরে সাগর খুবই উত্তাল। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সমুদ্রে নামতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে অনেকেই সতর্কতা না মেনে পানিতে নামছেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

কক্সবাজার হোটেল মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার পর্যটক অবস্থান করছেন। তবে বৈরি আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হলে পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিনিধি/একেবি