জেলা প্রতিনিধি
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম
কুষ্টিয়া ভেড়ামারায় বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে জনি ওরফে রাজিম (২৮) নামের এক যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকার জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের দণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল) এর বিচারক জয়নাল আবেদীন এই রায় ঘোষণা করেন। এই মামলার একমাত্র আসামি জনি পলাতক আছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত জনি ওরফে রাজিম ভেড়ামারা উপজেলার ষোলদাগ গ্রামের বাসিন্দা বাদশা মিয়ার ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় ও দু’জনের মধ্যে গড়ে উঠা সম্পর্কের সূত্রে নিজেকে সেনা সদস্য পরিচয় দিয়ে আসামি জনি ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি রাতে একই উপজেলার বাসিন্দা বাদী তরুণীর বাড়িতে দেখা করে। এসময় বাদীর বাড়িতে বাবা মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগে জনি বাদীকে ধর্ষণ করে। এরপর থেকে আসামি জনি ওই তরুণীকে বিয়ে করার প্রলোভন দিয়ে অসংখ্যবার ধর্ষণ করে। এতে একপর্যায়ে বাদিনী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি পারিবারিকভাবে জানাজানি হলে আসামি জনিকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এসময় জনি নিজেকে সেনা সদস্য পরিচয় দিয়ে, প্রমোশন নিয়ে তার অফিসে ঘুষ দেওয়ার কথা বলে ৮ লাখ টাকা দাবি করে বাদীর পরিবারের কাছে। এতে একমাত্র মেয়ের জীবনকে সুখী করার কথা ভেবে ভুক্তভোগীর প্রবাসী বাবা আসামির দাবি করা টাকাও দেয়। এরপর থেকে আসামি বাদী বা তার পরিবারের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এবং বাদীর গর্ভে তার সন্তান নয় বলে চরিত্রহীন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে আসামি।
নিরুপায় হয়ে ২০২৩ সালের ২২ জুনে বাদী কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি নালিশি মামলা করেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ায়, এজাহার নামীয় একমাত্র আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগ এনে ভেড়ামারা থানার উপপুলিশ পরিদর্শক মিন্টু মিয়া ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাড. আব্দুল মজিদ জানান, ভেড়ামারা থানার তরুণীকে ধর্ষণসহ প্রতারণার অভিযোগে আসামি জনি ওরফে রাজারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সাক্ষ্য শুনানি শেষে সন্দেহাতীত প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ এক লাখ টাকার জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সাজা খাটার আদেশ দেন।
আসামি জনি ২০২৩ সালের ১৫ জুলাই পুলিশের কাছে গ্রেফতার হয়ে কারাবাসে ছিলেন। পরবর্তীতে জামিনে বেরিয়ে পলাতক আছেন বলেও জানান এই রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি।
প্রতিনিধি/এসএস