images

সারাদেশ

টাঙ্গাইলে লোডশেডিংয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ

জেলা প্রতিনিধি

২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৮ পিএম

টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে যে, উপজেলা পৌর এলাকায় লোডশেডিং কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে দৈনিক ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) সখীপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সর্বোচ্চ চাহিদার সময় পুরো উপজেলায় বিদ্যুতের প্রয়োজন ৩৮ মেগাওয়াট। অথচ গড়ে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৪ থেকে ১৬ মেগাওয়াট। কোনো কোনো সময় সরবরাহ ১০ মেগাওয়াটে নেমে আসে। ফলে বাধ্য হয়েই কর্তৃপক্ষকে দীর্ঘসময় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। উপজেলার ১৭টি ফিডারের মধ্যে দুই-তিনটিতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও অধিকাংশ এলাকাতেই বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

স্কুলশিক্ষক তজিবর রহমান বলেন রাতের বেলা বাচ্চাদের পড়ার সময় বিদ্যুৎ থাকে না। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে টর্চলাইট বা মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। এমন পরিবেশে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না।

কেজিকে উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আলিফা নওশীন জানায়, ‘ভ্যাপসা গরমে বিদ্যুৎ থাকে না। রাতের বেলা মোমবাতি আর মোবাইলের আলোয় ইংরেজি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয়েছে।’

অন্যদিকে জারিফ হাসান, রত্না ইসলাম ও সুমাইয়া তরফদারসহ একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সামান্য ঝড়েই বিদ্যুৎ চলে যায়, যা ফিরে আসতে দুই দিনও লেগে যাচ্ছে। এতে ফ্রিজে রাখা মাছ-মাংস নষ্ট হচ্ছে এবং তীব্র পানি সংকটে অন্য বাড়ি থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের (বিউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর তালুকদার বলেন চাহিদার তুলনায় আমরা মাত্র এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ পাচ্ছি, যার ফলে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এছাড়া ঝড়-বৃষ্টি হলে লাইনের ওপর গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। জনবল সংকটের কারণে এসব মেরামত করে বিদ্যুৎ সচল করতে কিছুটা সময় লাগে।

প্রতিনিধি/একেবি