জেলা প্রতিনিধি
২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০১ পিএম
কক্সবাজারে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানি হয়েছে এবং আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। এসব দুর্ঘটনা কক্সবাজার-টেকনাফ ও মেরিন ড্রাইভ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ঘটেছে।
জানা যায়, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের কোটবাজার স্টেশন এলাকায় বেপরোয়া গতির একটি পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় এক নির্মাণশ্রমিক নিহত হয়েছেন। রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর পালানোর সময় পিকআপ ভ্যানটির ধাক্কায় অন্তত চারটি অটোরিকশা দুমড়েমুচড়ে যায়।
নিহত নির্মাণশ্রমিকের নাম রবিউল ইসলাম (২২)। তিনি মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল হোছাইনের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের রামুর খুনিয়াপালং তুলাবাগান এলাকায় যাত্রীবাহী একটি সিএনজি টেকনাফ থেকে কক্সবাজার আসার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি এনজিও সংস্থার মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সিএনজিচালক দীন মোহাম্মদ (৩২)সহ কয়েকজন আহত হন। আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দীল মোহাম্মদকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভী বাজার এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে।
রামু হাইওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ সুকান্ত চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে। গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগর শুকনাছড়ি এলাকায় আরও একটি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নূর কলিমা (৩০) নামে এক নারী নিহত হন। তিনি কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলী রহমানিয়া মাদরাসা এলাকার বাসিন্দা।
নিহতের স্বজনরা জানান, টেকনাফগামী একটি সিএনজির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বেপরোয়া গতির একটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে নূর কলিমা ও তার মা নূর বেগম গুরুতর আহত হন। পরে তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক নূর কলিমাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত নূর বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন বলেন, দ্রুত গতি ও বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের কারণে বারবার সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
প্রতিনিধি/এসএস