images

সারাদেশ

গাজীপুরে বাবা-ছেলে হত্যার ঘটনায় মামলা, বড় ছেলে গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি

২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গীর বনমালা এলাকায় বাবা ও ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় নিহতের বোন বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় নিহত সোহেলের বড় ছেলে সোহানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন টঙ্গীর উত্তর দত্তপাড়া বনমালা প্রাইমারি স্কুল রোডের মোস্তফা দর্জির ছেলে মো. সোহেল হোসেন (৪৮) এবং তার ছোট ছেলে সাকিব হোসেন (১৭)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোররাতে টঙ্গীর বনমালা এলাকায় মো. সোহেল ও তার ছেলে সাকিব হত্যার ঘটনায় সোহেলের বোন শিরিন সুলতানা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় সোহেলের বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহানকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, নিহত সোহেল হোসেন ঢাকার খিলক্ষেত এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি একসময় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। কয়েক বছর আগে টঙ্গীর বনমালায় এক কাঠা জমি কিনে দুই কক্ষের একটি টিনশেড ঘর তৈরি করে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ১৮ মাস আগে দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত হয়ে তার স্ত্রী মারা যান। স্ত্রীর মৃত্যুর পর দুই ছেলেকে তিনিই দেখাশোনা করতেন। নিহত সাকিব রাজধানীর উত্তরার একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি সে ঢাকার তেজগাঁওয়ে একটি দোকানে কাজ করত।

শনিবার রাতে সোহেল তার দুই ছেলে সাকিব ও সোহানকে নিয়ে একই ঘরে দুই আলাদা কক্ষে ঘুমিয়েছিলেন। শেষ রাতে চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ জড়ো হয়। এরপর এক কক্ষ থেকে সাকিবের এবং বাসার পাশের রেললাইনের ধার থেকে বাবা সোহেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হওয়ার সন্দেহে প্রথমে জিআরপি পুলিশ সোহেলের মরদেহ নিয়ে যায়।

ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া সাকিবের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা দাগ ছিল। তার মুখের ভেতর কাপড় গুঁজে দেওয়া ছিল এবং দুই হাতের রগ কাটা ছিল। অন্যদিকে সোহেলের শরীরেও জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়। পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য দুটি মরদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

ঘটনাস্থলের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাত ১টা ৭ মিনিটের সময় সোহান তার বাবাকে অসুস্থ অবস্থায় টেনে-হিঁচড়ে রেললাইনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের ধারণা, সোহানের সাথে আরও একজন সহযোগী ছিল এবং তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সিসিটিভি ফুটেজে অন্য এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, যাকে স্থানীয়ভাবে মাদানী আলিফ ওরফে আলিফ সাদমান নামে শনাক্ত করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে। তবে তার পরিচয় ও ভূমিকা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘বাবা-ছেলে হত্যার ঘটনায় নিহতের বোন থানায় মামলা করেছেন। এতে বড় ছেলে সোহানকে গ্রেফতার দেখিয়ে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) বেলায়েত হোসেন টঙ্গীতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড় এক্সপ্রেসে রাত ১টা ৭ মিনিটে কাটা পড়ে সোহেল মারা যান। আর ঘর থেকে সাকিবের মরদেহ উদ্ধার হয়। তদন্ত চলছে; আশা করছি দ্রুতই এই জোড়া খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।’

প্রতিনিধি/একেবি