জেলা প্রতিনিধি
২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নকে ‘দুই ভাগ’ না করার দাবি জানানো হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে বাসুদেব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঐতিহ্যবাহী বাসুদেব ইউনিয়নকে ভেঙে নতুন আরেকটি ইউনিয়ন গঠন করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। যা স্থানীয় জনগণের অজান্তে এবং মতামত উপেক্ষা করেই করা হচ্ছে। এমনকি এ প্রক্রিয়া সম্পর্কে তারা আগে থেকেও কিছু জানতেন না।
তিনি আরো বলেন, একটি প্রভাবশালী মহল স্থানীয় প্রশাসনকে নানাভাবে চাপে রেখে বাসুদেব ইউনিয়নকে ভেঙে দিতে চাচ্ছে। এটিকে ঘিরে তারা নানা অপপ্রচারেও লিপ্ত রয়েছে। প্রশাসনও পক্ষপাতিত্ব করছে। মূলত ব্যক্তির রাজনৈতিক অভিলাষ বাস্তবায়নে এ ধরনের উদ্যোগ।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন, বাসুদেব ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল, সাবেক মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক মেম্বার নুরুল ইসলাম প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, জেলা প্রশাসন বরিশল গ্রামে গিয়ে তদন্তকালে ফ্যাসিস্টদের কিছু দোসর ও ভাড়াটিয়া লোকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন, যা এলাকাবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। জেলা প্রশাসনও পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। তিনি বরিশল গ্রামের তদন্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করলেও বাসুদেবে এসে করা তদন্ত নিয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। যা জনমনে সন্দেহ তৈরি করেছে।
নতুন ইউনিয়ন গঠন করে সেটিকে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাবেরও তীব্র সমালোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, বর্তমানে বাসুদেব ইউনিয়নের যে-কোনো স্থান থেকে অল্প সময়েই জেলা সদরে যাতায়াত সম্ভব। বেশ উন্নত জেলার সদর উপজেলা ছেড়ে আরেকটি উপজেলার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার মতো বিষয়। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অন্য উপজেলার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার যুক্তিকে অযৌক্তিক বলে আখ্যা দেন তারা। এলাকার ৮০ শতাংশ মানুষ চায় না ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন ভেঙে যাক।
বক্তারা বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, জেলা বিএনপি’র সদস্য কবীর আহমেদ ভুঁইয়া প্রভাব বিস্তার করে প্রশাসনিক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে এলাকাবাসীর কোনো যোগসাজশ নেই।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এলাকাবাসী ঐতিহ্যবাহী এই ইউনিয়নের অখণ্ডতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ও জীবন দিয়ে হলেও দাবি মানতে বাধ্য করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়।
প্রতিনিধি/এসএস