images

সারাদেশ

নারায়ণগঞ্জে ৭ খুন: রায় কার্যকরের দাবিতে নিহতদের পরিবারের মানববন্ধন

জেলা প্রতিনিধি

২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন হত্যাকাণ্ডের ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চূড়ান্ত রায় কার্যকর হয়নি। এতে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে শঙ্কা ও হতাশা বাড়ছে। 

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক (লিংক রোড) থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম এবং আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাঁদের মরদেহ ভেসে ওঠে, যা সে সময় সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল।

ঘটনার ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি, নিহত তাজুল ইসলামের বাবা আবুল খায়ের, নিহত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী শামসুন্নাহার আক্তার নুপুর এবং তাঁর মেয়ে রোজা আক্তার জান্নাতসহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, অপহরণের পর সাতজনকে নির্মমভাবে হত্যা করে তাঁদের মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ২৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের আগস্টে উচ্চ আদালত ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ পর্যায়ে আটকে থাকায় দীর্ঘ সময়েও রায় কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

নিহত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী নুপুর বলেন, ‘আমার মেয়ে জন্মের পর থেকে তার বাবাকে দেখেনি। অন্যদের বাবাকে দেখে সে কাঁদে। যারা তাকে এতিম করেছে, তাদের শাস্তি এখনো চোখে দেখলাম না।’

নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, ‘সবকিছু প্রমাণিত হওয়ার পরও রায় কার্যকর হচ্ছে না। আমরা দ্রুত বিচার বাস্তবায়ন চাই।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। নিহত তাজুল ইসলামের বাবা আবুল খায়ের আক্ষেপ করে বলেন, ‘জীবদ্দশায় বিচার দেখে যেতে পারব কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।’

মামলার নথি অনুযায়ী, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের সঙ্গে দণ্ডিত নূর হোসেনের পূর্বশত্রুতা ছিল, যার জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার দিন আদালত থেকে হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে অপহরণের শিকার হয়েছিলেন নজরুল ইসলামসহ সাতজন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অনতিবিলম্বে রায় কার্যকর করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

প্রতিনিধি/একেবি