images

সারাদেশ

কালের সাক্ষী বিজয়নগরের ২০০ বছরের পুরোনো ‘গোলাপি মসজিদ’

জেলা প্রতিনিধি

২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ছতরপুর গ্রামে অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন ও নান্দনিক ছতরপুর শাহী ঈদগাহ জামে মসজিদ। দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলী ও তিনটি বিশাল গম্বুজ মসজিদটিকে করে তুলেছে অনন্য। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘তিন গম্বুজ মসজিদ’ বা ‘গোলাপি মসজিদ’ নামেই বেশি পরিচিত।

মসজিদটির সঠিক নির্মাণকাল নিয়ে সুনির্দিষ্ট নথিপত্র না থাকলেও, ১৮৭৬ সালের ব্রিটিশ ম্যাপে এর অবস্থান পাওয়া যায়। সেই হিসেবে ধারণা করা হয়, মসজিদটি অন্তত ২০০ বছরের পুরোনো। স্থানীয়রা জানান, মসজিদটি নির্মাণের জন্য তৎকালীন সময়ে পাশেই একটি বিশেষ ইটভাটা তৈরি করা হয়েছিল। সেই ভাটায় পোড়ানো বড় আকৃতির ইট দিয়েই নির্মিত হয় এই ঐতিহাসিক স্থাপনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, মসজিদটির ছাদে তিনটি গম্বুজ রয়েছে, যার মাঝখানেরটি তুলনামূলক বড় এবং দুপাশেরগুলো কিছুটা ছোট। ভেতর ও বাইরের দেয়ালে রয়েছে চমৎকার সূক্ষ্ম কারুকাজ। গোলাপি রঙের এই মসজিদের দেয়ালগুলো প্রায় ৩ ফুট পুরু। মসজিদ প্রাঙ্গণে ওজুখানা ও ইমামের আবাসন ছাড়াও সামনে রয়েছে একটি সুবিশাল ঈদগাহ মাঠ। সবমিলিয়ে এক মনোরম পরিবেশে এই প্রাচীন স্থাপত্যটি অবস্থিত।

বর্তমানে এই মসজিদে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে শতাধিক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। তবে জুম্মা ও পবিত্র রমজানে মুসল্লিদের ভিড় উপচে পড়ে। মসজিদের ভেতর জায়গা সংকীর্ণ হওয়ায় অনেক সময় বাইরের ঈদগাহ মাঠে চট বিছিয়ে নামাজ আদায় করতে হয়। ঈদের সময় আশপাশের তিন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এখানে একসাথে সালাত আদায় করেন। এছাড়া প্রাচীন এই স্থাপনাটি দেখার জন্য প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ ছুটে আসেন।

মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ২১ বছর ধরে এই মসজিদে ইমামতি করছি। এখানের মুসল্লিরা অত্যন্ত আন্তরিক। তবে অর্থের অভাবে আমরা মসজিদের প্রয়োজনীয় অনেক সংস্কার কাজ করতে পারছি না। সরকারি অনুদান পেলে এই ঐতিহাসিক নিদর্শনের শ্রী বৃদ্ধি করা সম্ভব হতো।’

Golap-musq-3

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আমিনুল হক চৌধুরী বলেন, ‘এটি বিজয়নগর উপজেলার সবচেয়ে পুরাতন স্থাপত্য। প্রতিদিন অনেক মানুষ এর ইতিহাস জানতে এখানে আসেন। মূলত এই মসজিদটি নির্মাণের জন্যই এখানে একটি স্বতন্ত্র ইটভাটা তৈরি করা হয়েছিল। যথাযথ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখা সহজ হবে।’

প্রতিনিধি/একেবি