images

সারাদেশ

প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে প্রস্তুত যশোর

জেলা প্রতিনিধি

২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম

আগামীকাল যশোরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আর তাকে বরণ করতে শেষ সময়ের ব্যস্ত সময় পার করছে যশোর জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, জেলা বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোসহ যশোরস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন ও জনসভা নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও সফল করতে আসা যাওয়ার পথে নিরাপত্তাসহ কঠোর নিরাপত্তা বললের মধ্যে আনা হয়েছে অনুষ্ঠানস্থলগুলো। এসএসএফ-এর দায়িত্বশীল ইউনিট যশোরে অবস্থান করছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগামীকালের জনসভা ঘিরে যশোর শহরে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে বলে মনে করেছে জেলা বিএনপি। এ কারণে বিএনপির দলীয় প্রস্তুতিও শেষের পথে। জনসভা ঘিরে বাস, প্রাইভেট, মাইক্রো ও মোটরসাইকেল মিলিয়ে ৫ হাজারের মতো যানবাহন আসবে ধারণায় ইতোমধ্যে ১০টি পার্কিং স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে এমপি, মন্ত্রী ও ভিআইপিদের জন্য আলাদা পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বরণ করতে এবং তার মুখে আগামীর উন্নয়নের বার্তা শুনতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন যশোরবাসী। বিএনপি নেতাদের দাবি, সরকার প্রধানের আগমনের ওই দিন উৎসবের শহরে পরিণত হবে। শহরে ও শহরতলিতে, গ্রাম পার্যায়েও চলছে মাইকিং। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে আশায় বুক বেধেছেন যশোরবাসী। এই সফর যশোরসহ এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থা এবং মানুষের জীবনযাত্রায় মান উন্নয়ন ঘটবে এমনটিই আশা সবার। নানা প্রত্যাশা ও দাবি দাওয়া বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি দিয়ে উন্নয়ন ও দিন বদলের নেতৃত্ব দেবেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আশাবাদ এ অঞ্চলের গণমানুষের।

bbdaf756-6b5a-4aa4-86b4-21a4b7d093ab

প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার উজ্জ্বল হোসেনের তথ্যানুযায়ী, আগামীকাল বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে শার্শার উলশী খাল পুনঃখনন অনুষ্ঠানস্থলে আয়োজিত সুধী সমাবেশে যোগদান করবেন। এরপর দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন। এরপর দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করবেন। এছাড়া বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন। এটা গেল প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত কর্মসূচি। কিন্তু যশোরবাসী নানা দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও চান আগামীকালের জনসভায়।

আরও পড়ুন

যশোরবাসীর বঞ্চনা ঘোচাতে রেলমন্ত্রীকে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর চিঠি

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে ২ ফেব্রুয়ারি যশোরে এসেছিলেন। আর আগামীকাল যশোরে তার দ্বিতীয় সফর। গত ২ ফেব্রুয়ারি তিনি ঘোষণা দিয়ে গিয়েছিলেন, তার বাবার স্মৃতি বিজড়িত উলাশী খাল তিনি যশোরের মানুষকে সাথে নিয়ে পুনঃখনন করবেন। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ২৭ এপ্রিল তার এই সফর। এছাড়া যশোরে মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল বাস্তবায়নের। তারই রূপ দিতে তিনি আসছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে মানুষের দাবি, বিগত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দফায় যশোরের জনসভায় যশোর পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। কিন্তু তারুণ্যের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ঘোষণা দেবেন এমনটি আশা করছেন তারা। একই সাথে ভবদহে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান, যশোরে একটি সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিও পুরোনো। যশোরের সুধীজনদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটিও রয়েছে। তাদের দাবি, এই সরকারের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় দুটি হোক। যশোর বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক কার্গো বিমান বন্দর করার দাবিও অনেকের।

যশোর জেলা বিএপির সাধারণ সম্পাদক ও যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক এই জনসভায় লক্ষাধিক লোক সমাগমের টার্গেট করছেন। এর বেশিরভাগ লোকই আসবে শহরের বাইরে থেকে। বৃহত্তর যশোরের ৪ জেলা ছাড়াও খুলনা বিভাগের অন্য ১০ জেলা থেকেও কমবেশি মানুষ জনসভায় আসবেন। একটি শান্তিপূর্ণ ঐতিহাসিক জনসভা উপহার দেওয়ার চেষ্টা করছে জেলা বিএনপি। এরপর যানবাহনের দিকটিও সুন্দরভাবে দেখা হচ্ছে। এর জন্য ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে পার্কিং এলাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

প্রতিনিধি/এসএস